রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নের সময় এসে গেছে: পাকিস্তান

নিউজ ডেস্ক

পবিত্র মক্কার কাছে ড্রোন আটকের ঘটনার পর পাকিস্তান মনে করছে, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কার্যকর করার সময় এসেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ এ কথা জানিয়েছেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মক্কা চুক্তির অংশীদার হিসেবে পাকিস্তান নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে। মক্কার কাছে হামলার ঘটনা চুক্তিটি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এনেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

খাজা আসিফ বলেন, “মক্কা চুক্তি আমাদের জন্য প্রযোজ্য এবং আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব।” তবে চুক্তির অধীনে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী মক্কার দক্ষিণে একটি ড্রোন শনাক্ত করে তা ধ্বংস করার কথা জানায়। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ড্রোনটি পবিত্র নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ভূপাতিত করা হয়।

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনের বৈধ সরকারকে সমর্থনকারী জোট এই ঘটনার জন্য হুথিদের দায়ী করেছে। তবে হুথি বাহিনী মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, সৌদি আরবে তাদের হামলার লক্ষ্য সামরিক ও জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা; পবিত্র স্থানকে তারা লক্ষ্যবস্তু করে না।

খাজা আসিফ বলেন, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পাকিস্তানের জন্য শুধু কোনো চুক্তির বিষয় নয়, বরং ধর্মীয় দায়িত্বও। তিনি জানান, মক্কা বা মদিনার মতো পবিত্র স্থান আক্রান্ত হলে চুক্তি থাকুক বা না থাকুক, সেগুলোর সুরক্ষাকে পাকিস্তান বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার কাঠামো রাখা হয়েছে।

তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে দেশটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও কখন, কীভাবে এবং কী ধরনের শক্তি ব্যবহার করা হবে—এসব কার্যকরী বিষয় প্রকাশ করা হবে না।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন