রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ফুরিয়ে গেছে সৌদির ইন্টারসেপ্টর মিসাইল, সাহায্য চায় অন্যান্য দেশের

নিউজ ডেস্ক

ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত কমে আসায় কয়েকটি দেশের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করছে রিয়াদ বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এপির প্রতিবেদনে দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, সৌদি আরব সম্প্রতি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে। এসব ব্যবস্থা ব্যবহার করে হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলা করতে চায় দেশটি।

ইন্টারসেপ্টর মিসাইল হলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এমন ক্ষেপণাস্ত্র, যা শত্রুপক্ষের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনকে আকাশেই ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়। দীর্ঘদিন ধরে হুথিদের হামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে সৌদি আরবের এ ধরনের প্রতিরক্ষা মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের প্রধান মিত্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুতও কমে এসেছে। ইরানের সঙ্গে প্রায় ছয় মাস ধরে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়ও চাপ তৈরি হয়েছে বলে একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

তবে সৌদি আরবের অনুরোধে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান বা মিসর এখন পর্যন্ত সামরিক সহায়তায় সম্মতি দিয়েছে—এমন কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি। এপি জানিয়েছে, আরব দেশগুলো সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন ও সহমর্মিতা প্রকাশ করলেও সামরিক সহায়তার বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।

এর মধ্যেই মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মক্কার দক্ষিণে একটি ড্রোন ধ্বংসের কথা জানায় সৌদি আরব। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাষ্য, ড্রোনটি পবিত্র নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই প্রতিহত করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার জন্য হুথিদের দায়ী করেছে।

তবে হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সৌদি আরবে তাদের হামলার লক্ষ্য তেল ও সামরিক অবকাঠামো; ধর্মীয় বা পবিত্র স্থাপনাকে তারা লক্ষ্যবস্তু করে না।

এদিকে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই অঞ্চলটিতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হুথিদের হামলায় সৌদি আরবের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন