সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

এসিল্যান্ড-তহশিলদারদের কার্যক্রমে মন্ত্রণালয়ের কড়া নজর

নিউজ ডেস্ক

ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নতুন ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে ভূমি মন্ত্রণালয়। দেশের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড এবং তহশিলদারদের জিপিএস ট্র্যাকিং ও জিও ফেন্সিং প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনতে চালু হচ্ছে ‘দৃষ্টি’ নামের একটি অ্যাপ।

মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ‘দৃষ্টি—জিও ফেন্সিং অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম অ্যাপ্লিকেশন’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) হতে পারে। এ উপলক্ষে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সকাল ১১টার দিকে একটি সভা আহ্বান করা হয়েছে। এতে ভূমিমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সিনিয়র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ছয় জেলায় ‘দৃষ্টি’ অ্যাপের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। জেলাগুলো হলো—ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও বগুড়া।

এসব জেলার ৬১০টি কার্যালয়ের ৯১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রাথমিকভাবে এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে সারা দেশে ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

‘দৃষ্টি’ অ্যাপের মাধ্যমে ভূমি কর্মকর্তাদের অফিসে উপস্থিতি ও অবস্থান রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। জিপিএস ট্র্যাকিং ও জিও ফেন্সিং প্রযুক্তির সাহায্যে নির্ধারিত কর্মস্থলের সীমানায় কোনো কর্মকর্তা প্রবেশ করলে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে তার উপস্থিতির সংকেত পাওয়া যাবে।

অফিস চলাকালে নির্ধারিত এলাকার বাইরে যেতে হলে অ্যাপেই বের হওয়ার কারণ উল্লেখ করতে হবে। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ এবং নির্ধারিত সময়ের পর অফিসে প্রবেশের বিষয়েও নজরদারি থাকবে।

ভূমিমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সিনিয়র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের ভূমি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও অবস্থান পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নয়, ভূমিসেবা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমাও নতুন ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। নামজারিসহ ভূমিসংক্রান্ত নির্ধারিত কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

কোনো কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বিলম্বের কারণ জানাতে হবে। কোনো নামজারি করা সম্ভব না হলে কিংবা তা বাতিল করা হলে এর সুনির্দিষ্ট কারণ নথিতে লিপিবদ্ধ রাখতে হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, ভূমি অফিসগুলোকে জিপিএসের আওতায় আনা হচ্ছে। কোনো কর্মকর্তা নির্ধারিত কর্মস্থলের সীমানায় প্রবেশ করলেই অ্যাপের মাধ্যমে তার অবস্থানের সংকেত পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, অফিস সময়ে নির্ধারিত এলাকার বাইরে যেতে হলে কারণ উল্লেখ করে বের হতে হবে। বিনা অনুমতিতে অফিস ত্যাগ করা যাবে না এবং বিলম্বে অফিসে প্রবেশের সুযোগও থাকবে না।

সাধারণ মানুষ ভূমিসেবা নিতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যেসব জটিলতা ও ভোগান্তির মুখোমুখি হন, তা কমানোর লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ভূমি প্রশাসনে বড় অভিযোগগুলোর একটি ছিল কর্মকর্তারা যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকেন না বা অফিসে পাওয়া যায় না। ডিজিটাল এ ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘দৃষ্টি’ অ্যাপের বিস্তারিত তথ্য ও কার্যকারিতা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হবে।

মাঠপর্যায়ের ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, দেরিতে অফিসে আসা এবং নির্ধারিত সময়ের আগে চলে যাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর ফলে নামজারি, খতিয়ান সংশোধন ও ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে নাগরিকদের দিনের পর দিন অফিসে ঘুরতে হয়।

বিশেষ করে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির কারণে নামজারির মতো জরুরি কাজ আটকে থাকার অভিযোগ রয়েছে। এতে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তির পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগী বা দালাল চক্রের সুযোগ তৈরি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

নতুন ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে মাঠপর্যায়ের ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, কাজ সম্পন্নের সময়সীমা এবং সেবা প্রদানের প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন