রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

২৫ এজেন্সি নির্বাচনের ভিত্তি সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে: জামায়াত আমির

নিউজ ডেস্ক

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে নির্বাচন করে তাদের অধীনে অন্য এজেন্সিকে কাজের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, নির্বাচিত কয়েকটি এজেন্সির আগের অভিজ্ঞতা না থাকার তথ্যও সামনে এসেছে। কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে এসব এজেন্সিকে নির্বাচন করা হয়েছে, তা সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে ‘সিন্ডিকেট ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা কোনো সিন্ডিকেট চান না, বরং একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ শ্রমবাজারের পরিবেশ চান। তাঁর ভাষ্য, সমস্যা শুধু মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নয়; এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও শ্রমবাজার নিয়ে সংকট রয়েছে।

২৫টি এজেন্সি নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব এজেন্সির অধীনে অন্য এজেন্সিকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা কিছু এজেন্সিকেও নির্বাচনের বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদের নির্বাচন করা হয়েছে, সরকারকে তা পরিষ্কার করতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।

জামায়াত আমির আরও বলেন, নির্বাচিত এজেন্সিগুলোর সঙ্গে সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই—এ বিষয়টিও সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়ার যোগ্যতা ও মানদণ্ড প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার অতীতে তিনবার বন্ধ হয়েছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, পুনরায় চালুর পর এটি যেন চতুর্থবার বন্ধ না হয়। তাঁর মতে, শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশের জন্য অপমানজনক।

শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আগের সময়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট এখনো কার্যকর রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট চান না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। এমনকি তাঁর নিজের কোনো স্বজন সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তাকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, সাধারণ শ্রমিকদের ওপর শোষণ বন্ধ করতে হবে। পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা যদি শ্রমবাজার পরিচালনায় বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারে, বাংলাদেশকেও তা করতে হবে।

বিদেশগামী কর্মীদের অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাজের প্রয়োজনে মানুষ বিদেশে যাবে, কিন্তু সরকার যেন তাদের শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে কোনো অসৎ ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান যাতে সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বিরোধীদল প্রস্তুত। তবে পুরোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণকে শোষণের চেষ্টা করা হলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

শুধু শ্রমবাজার নয়, দেশের বিভিন্ন খাতেও সিন্ডিকেট রয়েছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। এসব সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রবাসীদের অধিকার নিয়েও কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, প্রবাসীদের অধিকার নিশ্চিত না করে শুধু তাদের ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করা উপহাসের শামিল। প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবিতেও তারা কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বৈধ ভিসা নিয়ে যাওয়ার পরও বাংলাদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানোর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কোনো কারণ না জানিয়ে তাদের ফেরত পাঠানো শুধু কর্মসংস্থানের অধিকার হরণ নয়, দেশের জন্যও অপমানজনক। এর পেছনে থাকা কারণ চিহ্নিত করে সমাধানের দায়িত্ব সরকারের বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রমবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন