রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা, ঢাকাকে কড়া বার্তা দিল নয়াদিল্লি

নিউজ ডেস্ক

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ। এ খবরের পর নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় ‘প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ’ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ভারত।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করছে—এমন কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ভারতও দেখেছে। তবে এ বিষয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তাঁর ভাষায়, ভারত তার নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছিলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই এসব চুক্তি পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

চুক্তিগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাসংক্রান্ত বিষয় রয়েছে। তবে পর্যালোচনা শেষে কোনো চুক্তি বাতিল বা সংশোধনের বিষয়ে সরকার এখনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।

এদিকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যু নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য, ট্রানজিট, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন।

বিশেষ করে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। একই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তিও দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত রয়েছে।

এ বিষয়ে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, পানি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুই দেশের বিদ্যমান যৌথ প্রক্রিয়াগুলো কার্যকর রয়েছে। গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির আওতায় পানি সংক্রান্ত বিষয় আলোচনার জন্য যৌথ নদী কমিশনের ব্যবস্থা রয়েছে এবং কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকগুলোও চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পানিসম্পদসংক্রান্ত বিষয়গুলো যৌথ নদী কমিশন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার মাধ্যমেই সমাধানের চেষ্টা করা হয়।

১০১টি চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ককে নতুন বাস্তবতায় এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশই বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চালাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার একদিকে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার অবস্থানও জানিয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন