রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

এমআইইজেড ঘুরে দেখলেন জার্মান পার্লামেন্টের প্রতিনিধিরা

নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা আরও জোরদারের সম্ভাবনা যাচাই করতে মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন (এমআইইজেড) পরিদর্শন করেছেন জার্মানির ফেডারেল পার্লামেন্ট বুন্দেসটাগের একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধি দল।

শুক্রবার প্রতিনিধি দলটি এমআইইজেড পরিদর্শনে গেলে তাদের স্বাগত জানান মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল।

বুন্দেসটাগের সংসদ সদস্য নিকলাস কাপের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) গেরল্ড অটেন, ইয়োহান সাটহফ ও উরসুলা শাওস। এ ছাড়া জার্মান বুন্দেসটাগ প্রশাসনের সহায়ক কর্মকর্তা আনিয়া কাটেরিনা এলিজাবেথ বিনার্ট এবং দোভাষী ম্যাক্স ডরফ্লার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ছিলেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোৎস, ইকোনমিক অ্যাটাশে অলগা নভিকোভ ভিনেন, হেড অব পলিটিকাল, প্রেস অ্যান্ড কালচার মনিকা রয়টার, পলিটিকাল অ্যান্ড প্রেস অফিসার মিফতাহুল জান্নাত এবং ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেহরাব বিন তারেকও এ সময় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ছিলেন।

পরিদর্শনকালে এমজিআইয়ের কর্মকর্তারা জার্মান প্রতিনিধি দলকে এমআইইজেডের বিভিন্ন সুবিধা ঘুরিয়ে দেখান। বিশেষ করে অর্থনৈতিক অঞ্চলে থাকা দুটি জার্মান মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান—সিএইচটি বাংলাদেশ লিমিটেড ও সিগওয়ার্ক বাংলাদেশ লিমিটেডের কারখানা পরিদর্শন করেন তারা।

এমজিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এমআইইজেডের অধিকাংশ কারখানায় জার্মানির তৈরি যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের মতে, এটি বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে বিদ্যমান শিল্প ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার প্রতিফলন।

পরিদর্শন শেষে বুন্দেসটাগের সংসদ সদস্য নিকলাস কাপের বলেন, এমআইইজেডে জার্মান শিল্প ও প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখে তিনি আনন্দিত। এ ধরনের পরিদর্শন দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি করে এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এমজিআইয়ের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, এমআইইজেডে জার্মান বুন্দেসটাগের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানাতে পেরে তারা সম্মানিত। জার্মানি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী। অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে কয়েক দশকের সহযোগিতার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও মানবসম্পদ উন্নয়নেও দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মোস্তফা কামাল বলেন, এমআইইজেড বাংলাদেশের একটি আধুনিক বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল। এখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহ, নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার সুবিধা রয়েছে। তিনি জার্মান বিনিয়োগকারীদের এমআইইজেডে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এমজিআই সূত্রে জানা যায়, এমআইইজেডের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও দুটি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে প্রতিষ্ঠানটি। এগুলো হলো কুমিল্লা ইকোনমিক জোন ও তিতাস ইকোনমিক জোন।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলকে আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব করে গড়ে তোলা হয়েছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, জাপান, ভারত, চীন, বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে কারখানা স্থাপন করেছে।

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই) বাংলাদেশের একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী। ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে এফএমসিজি, জ্বালানি, উৎপাদন ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বর্তমানে এমজিআইয়ের ৫৭টির বেশি শিল্প ইউনিট রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ৬৫ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ‘ফ্রেশ’সহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের ভোক্তাদের পণ্য ও সেবা দিয়ে আসছে শিল্পগোষ্ঠীটি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন