বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে, তখনই নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, নারীদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও বিএনপি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, নারীদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলা হলে এর সুফল শুধু একটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতেও পড়ে। নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পরিবারকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখা সম্ভব।
তিনি বলেন, নারীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর ওপর বিএনপি গুরুত্ব দিয়েছে। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নারীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ স্নাতক (অনার্স) পর্যন্ত সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছেন। নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুললে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, একটি জাতির অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষা। শিক্ষাকে উপেক্ষা করে কোনো দেশই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে পারে না।
তবে গত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ‘ছেলেখেলা করা হয়েছে’ বলে অভিযোগ করেন তিনি। রিজভীর ভাষ্য, শিক্ষার গুরুত্ব যথাযথভাবে বিবেচনা না করায় এবং বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুরো জাতির ওপর।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের ফলাফল পর্যন্ত নানা ধরনের অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি ক্ষমতাশালী মহল থেকে ফোন করে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলার কারণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী।
প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতার উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। রিজভী বলেন, প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ করতে হবে। কিন্তু দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে পরিচালনা করা হয়েছে, যার ফলে প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ‘আমাদের নিষ্ক্রিয় করার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে রিজভী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, কোনো জাতি শিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ ও প্রণোদনা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারে না। শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে বিনিয়োগ ও প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
রিজভী আরও বলেন, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

