রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের দাবি

নিউজ ডেস্ক

পোশাক শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)। সংগঠনটির দাবি, নভেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণা করে ডিসেম্বর থেকেই তা কার্যকর করতে হবে।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানায় আইবিসি। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

আইবিসি জানায়, নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করতে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। এরপর নভেম্বরের মধ্যে নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করে ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হলে ২০২৭ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শ্রমিকেরা ডিসেম্বরের বেতনের সঙ্গে বর্ধিত মজুরি পেতে পারেন।

সংগঠনটি বলছে, পোশাক শ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ২০২৩ সালের নভেম্বরে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে শ্রম আইন সংশোধন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। সে হিসাবে নতুন মজুরি নির্ধারণের সময় ঘনিয়ে এলেও এখনো মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

আইবিসির ভাষ্য, মজুরি বোর্ড গঠনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামোর প্রস্তাব সরকারের কাছে দেওয়ার কথা। কিন্তু বোর্ড পুনর্গঠনে বিলম্ব হলে পুরো প্রক্রিয়াই পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংগঠনটি আরও জানায়, গত ৪ আগস্ট শ্রমমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে দ্রুত মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের দাবি জানানো হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে দাবি করেছে আইবিসি।

সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ছিল ১ হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সা। ২০১০ সালে তা বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা, ২০১৩ সালে ৫ হাজার ৩০০ টাকা, ২০১৮ সালে ৮ হাজার টাকা এবং ২০২৩ সালে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়।

আইবিসি বলেছে, গত দুই দশকে ন্যূনতম মজুরি কয়েক দফা বাড়লেও একই সময়ে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়েছে। ফলে বর্তমান মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।

এবার পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কত হওয়া উচিত, তা নির্ধারণে সংগঠনটির একটি দল পর্যালোচনা করছে বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। পর্যালোচনা শেষে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে এবং তা গণমাধ্যমের কাছেও তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছে আইবিসি।

দাবি বাস্তবায়নে ধারাবাহিক কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে সংগঠনটি। আগামী ৪ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও মিছিল শেষে শ্রমমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ৫ থেকে ২০ অক্টোবর গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে আইবিসি।

সংবাদ সম্মেলনে আইবিসির সভাপতি মীর আবুল কালাম আজাদ, সিনিয়র সহসভাপতি আমিরুল হক আমিন, সহসভাপতি চায়না রহমানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন