চাকরি থেকে পলায়ন এবং অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামানসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
২০২৪ ও ২০২৫ সালে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া অন্য কর্মকর্তারা হলেন—অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব দাস এবং সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা জেলার সাবেক এসপি মো. আসাদুজ্জামান ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদা, রাজশাহীতে যোগ দেন। ওই বছরের ১৭ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর ছুটি ভোগের জন্য তিনি সারদা ত্যাগ করেন।
তবে ছুটি শেষ হওয়ার পরও কর্মস্থলে যোগ দেননি তিনি। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।
পলায়নের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।
তদন্তে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি এর জবাব দেননি। পরে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট থেকে আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এর আগে তিনি পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটে পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তার বিরুদ্ধে করা বিভাগীয় মামলায় অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। ওই বছরের ১২ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য ছুটি নিয়ে থাইল্যান্ড যাওয়ার উদ্দেশ্যে কর্মস্থল ত্যাগ করেন তিনি।
ছুটি শেষ হওয়ার পরও কর্মস্থলে ফিরে না আসায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। পরে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর থেকে তার বরখাস্তের আদেশ কার্যকর করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিএমপির সচিবালয় নিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাজীব দাস ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।
ছুটি শেষ হওয়ার পরও কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। প্রজ্ঞাপনে ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর থেকে তার বরখাস্তের আদেশ কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।
তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলা দায়ের করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। বিভাগীয় প্রক্রিয়া শেষে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা, কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বরখাস্তের আদেশ কার্যকর হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চাকরি থেকে অপসারিত হিসেবে গণ্য হবেন।

