রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আ. লীগের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অর্থ নাশকতায় যাচ্ছে কি না, খতিয়ে দেখার আহ্বান ইশরাকের

নিউজ ডেস্ক

গণহত্যায় জড়িত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার ফাঁসির আদেশের পর একটি মহল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ওই মহল রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার’ প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলের আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘খুনি হাসিনা পালিয়ে গেছে, তার নেতা-কর্মীরাও পালিয়ে গেছে। কিন্তু তাদের রেখে যাওয়া বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পরিবহন ও এ ধরনের প্রতিষ্ঠান এখন কারা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সেখান থেকে অর্জিত অর্থ নাশকতা ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, সেটি এখন আমাদের ভেবে দেখার সময় এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পতিত ফ্যাসিবাদের পাহারাদার হওয়ার জন্য রাজনীতি করি নাই।’

বিরোধী দলের প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিরোধী দলের আসনে থাকায় তাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রয়োজনীয় সম্মান দেওয়ার কথা তারা বিবেচনা করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক নাশকতার অভিযোগ নিয়ে তাদের মঞ্চ থেকে বক্তব্য আসছে না।

ইশরাক বলেন, দুই দিন আগে ১১ দলীয় জোটের একজন তরুণ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, সেটিও তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করেন না। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকার কারণে তারা সংযত ভাষায় কথা বলছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধী দলের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা বলেন, তারেক রহমান কোন পথে ক্ষমতা ছাড়বে। সেই প্রশ্ন আপনারা করেন। আপনাদের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ বাংলাদেশের জনগণ ঘৃণায় প্রত্যাখ্যান করেছে।’

ইশরাক হোসেন আরও বলেন, একদিকে বিরোধী দল সরকারবিরোধী আন্দোলন করছে, অন্যদিকে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই দুই পরিস্থিতির মধ্যে কোনো যোগসাজশ থাকতে পারে কি না, সে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা হতে পারে এবং এটা হলে অবাক হওয়ার কোনো কিছু থাকবে না।’

তবে এ বক্তব্যকে রাজনৈতিক সন্দেহ ও অভিযোগ হিসেবেই তুলে ধরেছেন তিনি।

সরকার পরিচালনার পাশাপাশি বিএনপির নেতা-কর্মীদের রাজপথে দায়িত্ব পালনের কথা তুলে ধরেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগের দিন দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব সরকারের হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থা কাজ করছে। একই সঙ্গে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে উঠে আসা নেতা-কর্মীদেরও নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

ইশরাক অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমরা জিয়ার সৈনিকেরা রাজপথে অবস্থান করে আমাদের করণীয় সেটা আমরা করব, ইনশাআল্লাহ।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেতাদের প্রশংসা করে ইশরাক হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন পর রাজপথে অবস্থান ও সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল হওয়ার মধ্য দিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সচিবালয়ে বসে থাকতে, পার্লামেন্টে বসে থাকতে ভালো লাগে না। রাজপথে রাজনীতি করে জনগণের কল্যাণ সাধনের মাধ্যমে আমরা রাজনীতি করে যাব, ইনশাআল্লাহ।’

আগামী দিনে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, ঢাকা মহানগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল আলম মজনু, সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন