সংসদ সদস্যদের (এমপি) নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে নতুন করে প্রায় ২৫ হাজার ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে থাকা সংসদীয় আসনগুলোতে ৯টি নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি দুটি চলমান প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে আটটি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং একটি সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য। এসব প্রকল্পে সড়ক, সেতু, কালভার্ট, হাটবাজারসহ ধর্মীয় ও সামাজিক স্থাপনা নির্মাণ ও সংস্কারের কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন ৯ প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় ২০ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। এর সঙ্গে চলমান দুটি প্রকল্পের জন্য আরও ৪ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা যোগ করার প্রস্তাব রয়েছে। সব মিলিয়ে সংসদীয় আসনপ্রতি গড় বরাদ্দ ৮০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।
তবে নতুন করে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাবের মধ্যেই আগের প্রকল্পের অর্থ অব্যয়িত থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। চলমান দুটি প্রকল্পে এখনো প্রায় ৬৩৭ কোটি টাকা খরচ হয়নি। এর মধ্যে একটি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ৪৩২ কোটি এবং একটি সামাজিক অবকাঠামো প্রকল্পে ২০৫ কোটি ২০ লাখ টাকা অব্যয়িত রয়েছে।
এর পরও এসব প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এমনকি একটি চলমান সামাজিক অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ শেষ না হলেও একই ধরনের অবকাঠামো তৈরিতে নতুন করে প্রায় ২ হাজার ৫৯০ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
সংসদীয় আসনভিত্তিক উন্নয়ন বরাদ্দের এ ব্যবস্থা নতুন নয়। ২০০৫ সালে আসনপ্রতি গড়ে ২ কোটি টাকা দিয়ে এ ধরনের বরাদ্দ শুরু হয়। পরে ২০০৯ সালে তা ১৫ কোটি, ২০২০ সালে ২০ কোটি এবং ২০২৪ সালে ২৫ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আগের কাঠামোর তুলনায় বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
এদিকে সংসদ সদস্যদের চাহিদার ভিত্তিতে প্রকল্প নেওয়ার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অতীতের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ, রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। একটি গবেষণায় সংসদীয় আসনভিত্তিক ৬২৮টি প্রকল্প পর্যালোচনা করে দরপত্র থেকে বিল পরিশোধ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত হবে না। প্রকল্প নির্বাচনে প্রয়োজনীয়তা যাচাই, অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং কাজের মান নিশ্চিত করা না গেলে বড় অঙ্কের বরাদ্দও অপচয়ের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পে অর্থ বণ্টনের কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জনসংখ্যা, দারিদ্র্য বা অবকাঠামোগত ঘাটতির মতো সূচকের পরিবর্তে মূলত সংসদীয় আসনের সংখ্যাকে ভিত্তি ধরে বরাদ্দ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এদিকে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি আটটি বিভাগীয় প্রকল্পের বিস্তারিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিটি কাজের তালিকা, পরিমাণ, একক ব্যয়, নকশা ও বিস্তারিত প্রাক্কলন যুক্ত করার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় পরামর্শক ও যানবাহনসংক্রান্ত ব্যয় বাদ দিতে বলা হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর সংস্কার ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তবে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের আগে আগের প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়ার ওপরই এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: কালের কন্ঠ

