জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর জনগণের কষ্টের বিষয়টি সহানুভূতি ও সহমর্মিতার সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, আগের সরকারের সময়ে জ্বালানির দাম বাড়লে তারা শুধু প্রতিবাদ নয়, সরকারের পদত্যাগও চাইতেন। তবে বর্তমান সরকার নির্বাচিত হওয়ায় একই ধরনের দাবি তোলা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার অজনপ্রিয় হয়ে পড়ছে কি না—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধিতে জনগণের কষ্ট হচ্ছে এবং আরও হতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারের প্রতি কিছুটা সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সময়ে জ্বালানির দাম বা নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে তারা সরকারের পদত্যাগের দাবি তুলতেন। কারণ তাদের দৃষ্টিতে সেই সরকার বৈধ ছিল না। কিন্তু বর্তমান সরকার নির্বাচিত হওয়ায় এটিকে নিজেদের সরকার হিসেবে দেখার কথা বলেন তিনি।
তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা হতে পারে বলে স্বীকার করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা। তার ভাষ্য, সিদ্ধান্তটি আরও ভালোভাবে বা তুলনামূলক কম হারে করা যেত কি না, সে বিষয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, জনগণের দৃষ্টিকোণ থেকে এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা আসবে এবং সরকারেরও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে হবে। তবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি শুধু বাংলাদেশের পরিস্থিতি নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কারণ তেলের দাম বাড়লে নির্বাচনে তার প্রভাব পড়তে পারে। বাংলাদেশে মধ্যবর্তী নির্বাচন না থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রয়েছে। ফলে জনগণের অসন্তোষের ঝুঁকি সরকারও বিবেচনায় রাখছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকার জেনে-বুঝে জনগণকে অসন্তুষ্ট করার কোনো কারণ নেই। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আগের সরকারের মতো অর্থের বিনিময়ে কাউকে জিতিয়ে দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা থাকবে না বলেও দাবি করেন তিনি। তবে নির্বাচনের কারণে সরকারের জন্য কিছু রাজনৈতিক ঝুঁকি রয়েছে বলেও স্বীকার করেন তথ্য উপদেষ্টা।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো শর্ত বা চাপ নেই বলেও জানান ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, আইএমএফের সাধারণ নীতি হলো সরকার যেন অতিরিক্ত ভর্তুকি না দেয়। তবে সরকারের সব সিদ্ধান্ত যে আইএমএফের নীতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নয়। জনগণের কল্যাণ বিবেচনায় নিয়ে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকারের বিভিন্ন কার্ডভিত্তিক কর্মসূচির ক্ষেত্রেও আইএমএফের পুরোপুরি সম্মতি নেই। এরপরও জনগণের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
দেশে কোনো রাজনৈতিক সংকট নেই দাবি করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিরোধী দল নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করতে পারে। তবে ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে অগ্নিসংযোগ বা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।
তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যারা ককটেল বিস্ফোরণ বা বাসে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনায় জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা।
উল্লেখ্য, রোববার রাতে সরকার ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সোমবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরই গণপরিবহনের ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়টিও সামনে আসে।

