জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে। এরই মধ্যে প্যাকেটজাত তরল দুধের দাম লিটারে ১০ টাকা এবং আটা ও ময়দার দাম কেজিতে ৫ টাকা করে বেড়েছে। অন্যদিকে, বেশির ভাগ নিত্যপণ্য এখনো আগের দামে বিক্রি হলেও পরিবহন ব্যয় বাড়লে ধাপে ধাপে এসব পণ্যের দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
গত রোববার সরকার ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। সোমবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এর পরপরই বাজারে জ্বালানি ব্যয়ের প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে বাজারদরে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানীতে আসা কাঁচাপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর পরিবহন খরচ বাড়লে সেই বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তাকেই বহন করতে হতে পারে।
রাজধানীর একটি বাজারের এক আড়তদার জানান, ঠাকুরগাঁও থেকে তার পণ্যবাহী একটি ট্রাক ঢাকায় আসতে প্রায় ১৭০ লিটার তেল লাগে। লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ায় একই পরিমাণ জ্বালানিতে এখন প্রায় ৩ হাজার ৪০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে।
আরেক আড়তদার জানান, কিশোরগঞ্জ থেকে যে পণ্যবাহী গাড়ি আগে প্রায় ৮ হাজার টাকা ভাড়ায় আসত, সেটির ভাড়া সামনে বেড়ে ১০ হাজার টাকা হতে পারে।
তবে ট্রাকচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবহন ভাড়া বাড়ানো হয়নি। আপাতত আগের ভাড়াতেই পণ্য পরিবহনের জন্য মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তবে সামনে ভাড়া বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ বলছেন, পণ্যের দাম বাড়তে থাকলে ক্রেতাদের বাজার করার পরিমাণও কমে যাচ্ছে।
রাজধানীর এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, এমনিতেই বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে নতুন করে পণ্যের দাম বাড়লে বাজার আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, আগে যে ক্রেতা ৫ হাজার টাকার বাজার করতেন, এখন অনেক ক্ষেত্রে তিনি ২ হাজার টাকার মধ্যেই বাজার শেষ করছেন।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিত্যপণ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারাও। তাদের মতে, এমনিতেই বাড়তি দামের কারণে সংসারের ব্যয় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নতুন করে পণ্যের দাম বাড়লে চাপ আরও বাড়বে।
এক ক্রেতা বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন পণ্যের দাম একটু একটু করে বাড়ছে। আরেক নারী ক্রেতা বলেন, বাজারে এমনিতেই পণ্যের দাম বেশি, নতুন করে দাম বাড়লে তাদের জন্য সংসার চালানো আরও কঠিন হবে।
অন্য এক ক্রেতা জানান, সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজারে এসে প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যই কেনা সম্ভব হচ্ছে না।
আগস্টে দেশের মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমলেও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারজাতকরণের ব্যয়ও বাড়তে পারে।
এর ফলে আগামী দিনগুলোতে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে এবং মূল্যস্ফীতিও ফের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর বাজারে এর প্রভাব কতটা ছড়ায়, সেটিই এখন ভোক্তা ও ব্যবসায়ী—দুই পক্ষের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

