রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

চলতি বছরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়ার আভাস শাহে আলমের

নিউজ ডেস্ক

চলতি বছরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর ধারণা, নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী বছরের শুরু থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দিকে এগোচ্ছে। আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে নির্বাচনগুলো শেষ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে কমিশন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো নির্ধারণ হয়নি। ইসি আগে একটি সম্ভাব্য তারিখের কথা বললেও পরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর আগামী ৬ জুনের মধ্যে নির্বাচন শেষ করার কথা জানিয়েছে।

রোজা ও পরীক্ষার সময় বিবেচনায়

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রমজান মাস, এসএসসি পরীক্ষা এবং ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই ইসি সময়সূচি নিয়ে নতুন করে ভাবছে বলে তিনি মনে করেন। কারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তবে ঠিক কবে ভোট শুরু হবে, কোন ধাপে কোন নির্বাচন হবে এবং পুরো নির্বাচনী কার্যক্রমের ব্যয় কত হবে—এসব বিষয়ে ইসি এখনো সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত তথ্য জানায়নি বলে জানান তিনি।

সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন

মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি নির্ধারণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। স্থানীয় সরকার, অর্থ, স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। প্রয়োজন হলে আবারও বৈঠক হতে পারে।

তিনি বলেন, সরকারের প্রত্যাশা হলো চলতি অর্থবছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করা। তবে ভোট কবে থেকে শুরু হবে, সেটি সরকার নির্ধারণ করবে না; নির্বাচন কমিশনই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইসি চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে আরেকটি বৈঠক করে নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করতে পারে। ওই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রতিনিধিরাও থাকবেন।

পাঁচ নির্বাচনে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য ব্যয় সম্পর্কেও তথ্য দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে ইসি প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য হিসাব দিয়েছে। সরকারও মোটামুটি ওই পরিমাণ অর্থের ব্যবস্থা রাখার প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে প্রকৃত ব্যয় কম-বেশি হতে পারে।

এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রায় ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে জানান তিনি। বাকি অর্থ সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসহ অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যয় হবে।

আগস্টে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে প্রতিক্রিয়া এখনই বলা কঠিন

সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের তারিখই এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে এ মুহূর্তে মানুষের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা বলা কঠিন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। নির্বাচনের দিনক্ষণ ও ধাপ নির্ধারণের পরই এ বিষয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি বছরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি এখনো ঘোষণা করেনি ইসি। আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে নির্বাচন শেষ করার যে সময়সীমার কথা কমিশন জানিয়েছে, সেই কাঠামোর মধ্যেই ধাপে ধাপে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা এগোচ্ছে বলে ধারণা করছেন প্রতিমন্ত্রী।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন