সরকারের বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপাতে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে নিম্নমানের কাগজে ছাপানো ৫ লাখের বেশি ফর্মা ও ৩৫ হাজার বই বাতিল করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এ ঘটনায় সাতটি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
আগামী শিক্ষাবর্ষে দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য প্রায় ৩১ কোটি নতুন বই ছাপানো হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক এসব বই ছাপাতে এবার সরকারের ব্যয়ও বেড়েছে। তবে বাড়তি ব্যয়ের মধ্যেও বইয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুরো প্রক্রিয়ার তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রেদোয়ানিয়া, লিখন, মেঘদূত, আনন্দ, সাগরিকা, সরকার ও ফেমস প্রিন্টিং প্রেসে বই ছাপানোর ক্ষেত্রে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পরীক্ষা ও যাচাইয়ের পর এসব প্রতিষ্ঠানের ছাপানো ৫ লাখের বেশি ফর্মা এবং ৩৫ হাজার বই মানহীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরে সেগুলো বাতিল করে এনসিটিবি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাত প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও মুদ্রণ পর্যায়েই নিম্নমানের কাগজ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় এনসিটিবির তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মুদ্রণসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বই ছাপার সময় কাগজের মান যাচাই ও নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুসরণ নিশ্চিত করার কথা থাকলেও অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় একই ধরনের অনিয়ম বারবার ঘটছে। তাদের মতে, শুধু নিম্নমানের বই বাতিল বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
এবারের বই ছাপানোর কার্যক্রমে আরও একটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নানা অভিযোগে গত বছর কালোতালিকাভুক্ত হওয়া কিছু প্রতিষ্ঠানও এবার নতুন করে বই ছাপানোর কাজ পেয়েছে বলে জানা গেছে।
এর পাশাপাশি দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। মুদ্রণসংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, অনিয়মের অভিযোগ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে আবার সরকারি বই ছাপানোর কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেল।
আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর মতো বড় কর্মযজ্ঞে কাগজের মান, ছাপার মান ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই সরবরাহ—সবকিছুই নিশ্চিত করা এনসিটিবির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ইতোমধ্যে নিম্নমানের কাগজে ছাপানো বই ও ফর্মা বাতিলের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কতটা কঠোর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

