চীনের বেইজিংয়ে আয়োজিত বিশ্ব রোবট গেমসে মানবাকৃতির রোবটের দৌড় নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, ফুটবল ও মার্শাল আর্টসহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেওয়া রোবটগুলো নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। এর মধ্যে ১০০ মিটার ও ৪০০ মিটার দৌড়ে রোবটের পারফরম্যান্স বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
বেইজিংয়ের অলিম্পিক স্পিড স্কেটিং অ্যারেনায় সপ্তাহান্তে শুরু হওয়া এ আয়োজনে শনিবার ১০০ মিটার দৌড়ে অংশ নেয় ‘তিয়ানগং আল্ট্রা’ নামের একটি মানবাকৃতির রোবট। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, রোবটটি ৯ দশমিক ৩৯ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে।
মানুষের ১০০ মিটার দৌড়ের বিশ্বরেকর্ড ৯ দশমিক ৫৮ সেকেন্ড। ২০০৯ সালে জ্যামাইকার কিংবদন্তি অ্যাথলেট উসাইন বোল্ট এই রেকর্ড গড়েছিলেন। রোবটের ৯ দশমিক ৩৯ সেকেন্ডের সময়টি সেই মানব রেকর্ডের চেয়ে দ্রুত হলেও, রোবট ও মানুষের প্রতিযোগিতার শর্ত এক নয় বলে এটিকে সরাসরি মানব বিশ্বরেকর্ড ভাঙা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
৪০০ মিটারেও নজরকাড়া গতি
রোবটদের পারফরম্যান্সের আরেকটি আলোচিত দিক ছিল ৪০০ মিটার দৌড়। রোবট গেমসের দ্বিতীয় দিনে একই মডেলের একটি রোবট ৩৮ দশমিক ১৫ সেকেন্ডে ৪০০ মিটার শেষ করে।
বেইজিংয়ের স্থানীয় সরকার-সমর্থিত একটি গবেষণাকেন্দ্রে তৈরি রোবটটি দৌড়ের সময় উচ্চগতিতে ট্র্যাক প্রদক্ষিণ করে। দ্রুতগতির কারণে কয়েকবার ভারসাম্য হারানোর আশঙ্কা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত রোবটটি ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করে দাঁড়িয়ে থাকতে সক্ষম হয়।
রোবটটির দৌড় দেখতে গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক কৌতূহল। মানবদেহের মতো গঠন ব্যবহার করে তৈরি এসব যন্ত্র কীভাবে দৌড়, ভারসাম্য ও দ্রুতগতির গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করে, তা দেখতে অনেকেই আগ্রহ দেখান।
‘ভবিষ্যতে ঘরের কাজেও কাজে লাগবে’
খেলা দেখতে আসা ৭২ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত বাসিন্দা হউ ইয়ালি রোবটদের এমন পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, এখন মানুষ ও রোবটের সক্ষমতার সরাসরি তুলনা দেখার সময় এসেছে।
তবে শুধু দৌড়ের গতি নয়, ভবিষ্যতে এসব বুদ্ধিমান যন্ত্র মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কতটা কাজে আসতে পারে, সেটিকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি। রান্না করা, ঘর পরিষ্কারসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি কাজে রোবট মানুষের সময় ও শ্রম কমাতে পারবে কি না, সেটিও দেখার বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ব রোবট গেমসের মাধ্যমে চীন মানবাকৃতির রোবটের গতি, ভারসাম্য ও বিভিন্ন শারীরিক কর্মকাণ্ডের সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছে। বিশেষ করে অ্যাথলেটিকসের মতো গতিনির্ভর ইভেন্টে রোবটের পারফরম্যান্স ভবিষ্যৎ রোবট প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

