শিশুর ইসলামী শিক্ষার শুরুটা ছোটবেলা থেকেই হলে কোরআন ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি তার স্বাভাবিক আগ্রহ তৈরি হতে পারে। ছোট সুরা ও বিভিন্ন আয়াত শেখানোর পাশাপাশি শিশুদের আয়াতুল কুরসি মুখস্থ করানোও ইসলামী শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতটিতে আল্লাহর একত্ব, মহত্ত্ব, অসীম জ্ঞান ও সর্বময় ক্ষমতার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
শুধু মুখস্থ করানো নয়, বয়স ও বোঝার সক্ষমতা অনুযায়ী আয়াতটির অর্থ ও শিক্ষা শিশুকে সহজভাবে বোঝানোও জরুরি। এতে ছোটবেলা থেকেই আল্লাহ সম্পর্কে তার মধ্যে একটি সঠিক ধারণা গড়ে উঠতে পারে। সে জানতে পারে, আল্লাহই তার সৃষ্টিকর্তা এবং সবকিছুর প্রকৃত মালিক।
শিশুকে নিয়মিত কোরআন পড়া এবং বিভিন্ন আয়াত মুখস্থ করার অভ্যাস করানো হলে ধীরে ধীরে কোরআনের সঙ্গে তার একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরি হয়। আয়াতুল কুরসি শেখানোর মাধ্যমে কোরআনের আয়াত শোনা, পড়া ও মনে রাখার চর্চাও শুরু করা যায়।
শৈশবে গড়ে ওঠা এই অভ্যাস পরবর্তী জীবনে কোরআন শিক্ষার একটি ভালো ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে শিশুর ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে আনন্দ ও আগ্রহের সঙ্গে শেখানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
আয়াতুল কুরসিতে আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও সর্বময় কর্তৃত্বের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এর অর্থ শিশুকে সহজ ভাষায় বোঝানো হলে ভয়, বিপদ কিংবা অনিশ্চয়তার সময় আল্লাহর ওপর ভরসা করার শিক্ষা তার মধ্যে তৈরি হতে পারে।
শিশুকে বোঝানো যায়, মানুষের ক্ষমতা সীমিত হলেও আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং সবকিছুর ওপর তাঁর পূর্ণ কর্তৃত্ব রয়েছে। এ ধরনের বিশ্বাস শিশুর ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অংশ হতে পারে।
বয়স উপযোগীভাবে আয়াতুল কুরসির শিক্ষা তুলে ধরলে নামাজ, দোয়া ও অন্যান্য ইবাদতের প্রতিও শিশুর আগ্রহ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়ার অভ্যাস করানো হলে নিয়মিত আমলের চর্চা গড়ে উঠতে পারে।
তবে শুধু দ্রুত মুখস্থ করানোকে লক্ষ্য না করে আয়াতটির শব্দ, সঠিক উচ্চারণ ও অর্থ ধীরে ধীরে শেখানো ভালো। একসঙ্গে অনেক কিছু শেখানোর পরিবর্তে অল্প অল্প করে শেখালে শিশুর জন্য বিষয়টি সহজ ও আনন্দদায়ক হতে পারে।
শিশুর শেখার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের আচরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাবা-মা নিজেরাও নিয়মিত আয়াতুল কুরসি পড়লে এবং এর শিক্ষা নিজেদের জীবনে অনুসরণ করলে তা শিশুর সামনে বাস্তব উদাহরণ হিসেবে কাজ করতে পারে।
শৈশবে শেখা অনেক বিষয়ই মানুষের মনে দীর্ঘদিন প্রভাব রাখে। তাই ভালোবাসা, ধৈর্য ও শিশুর বয়স উপযোগী পদ্ধতিতে আয়াতুল কুরসি শেখানো হলে সে কোরআনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়াত সম্পর্কে জানতে পারবে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, ভরসা ও ভালোবাসার শিক্ষাও তার মধ্যে গড়ে উঠতে পারে।

