সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা, ই-কমার্স ও সাইবার নিরাপত্তায় সহযোগিতার আলোচনা

নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশে ফেসবুকের বিপুল ব্যবহারকারী ও অনলাইন ব্যবসার সম্ভাবনা বিবেচনায় ঢাকায় অফিস স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। একই সঙ্গে দেশের ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসার সম্প্রসারণ, শিক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তাসহ ডিজিটাল হয়রানি মোকাবিলায় বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণসহ নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, মেটার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ওই বৈঠকে থাকার কথা থাকলেও সময়ের কারণে অংশ নিতে পারেননি। বৈঠকে ঢাকায় মেটার অফিস বা কার্যক্রমের একটি ফোকাল পয়েন্ট স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় বাজার হওয়ায় ঢাকাকে মেটার কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে কবে এবং কীভাবে ঢাকায় অফিস খোলা হবে, সে বিষয়ে মেটা পরবর্তী সময়ে পর্যালোচনা করবে বলে জানান তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান শামা ওবায়েদ। একই সঙ্গে দেশের ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে মেটার সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও কাজ করতে আগ্রহী মেটা। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল হয়রানি কমাতে বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কী ধরনের সহযোগিতা করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

সরকার ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করার ব্যাপারেও মেটার আগ্রহ রয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেওয়া সরকারের প্রথম বাজেটে ই-কমার্স ও প্রযুক্তি খাতে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, বৈঠকে সেটিও তুলে ধরা হয়। মেটা বাংলাদেশের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট টিমের সঙ্গে আরও গভীরভাবে কাজ করতে মেটা আগ্রহী। ঢাকায় কখন এবং কীভাবে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হবে, তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ড. ইউনূসের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, ওই আলোচনায় মক্কা প্যাক্ট নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বরং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাধারণ আলোচনা হয়েছে।

হুমায়ুন কবির বলেন, আলোচনাটি আন্তরিক ছিল এবং এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে অংশীদারত্ব ও কৌশলগত অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তী বৈঠকে হবে বলে জানান তিনি।

এলডিসি উত্তরণ নিয়েও এদিনের আলোচনায় বিস্তারিত আলোচনা হয়নি বলে জানান হুমায়ুন কবির। তবে কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতি, দীর্ঘ সময়ের গণতান্ত্রিক ঘাটতি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে আলোচনায় এসেছে বলে তিনি জানান।

তার ভাষ্য, এসব বাস্তবতা বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ-সংক্রান্ত সময় বাড়ানোর আবেদনের প্রেক্ষাপট হিসেবে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে এবং বাংলাদেশ এ বিষয়ে সমর্থনও পাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, জ্বালানি সংকট নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সংশ্লিষ্ট বিশেষ কমিটিগুলো থেকেও ইতিবাচক নির্দেশনা পাওয়া গেছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন