রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ইব্রাহিম (আ.)-এর দোয়ার প্রতিফলন, শিক্ষক হিসেবে এসেছিলেন মহানবী (সা.)

নিউজ ডেস্ক

সাইয়্যিদুনা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) মহান আল্লাহর দরবারে এমন একজন রাসুল প্রেরণের জন্য বিশেষ দোয়া করেছিলেন, যিনি মানুষকে আল্লাহর কিতাব শিক্ষা দেবেন, প্রজ্ঞা দান করবেন এবং তাদের আত্মশুদ্ধির পথে পরিচালিত করবেন। পবিত্র কোরআনের সুরা আল-বাকারার ১২৯ নম্বর আয়াতে তাঁর সেই দোয়ার উল্লেখ রয়েছে।

দোয়ায় ইব্রাহিম (আ.) বলেছিলেন, ‘হে আমাদের রব! এই ভূখণ্ডের মধ্য থেকেই এই জনপদবাসীর জন্য আপনি এমন একজন রাসুল প্রেরণ করুন, যিনি তাদের কাছে আপনার নিদর্শনসমূহ পাঠ করে শোনাবেন, আপনার কিতাব শিক্ষা দেবেন, তাদের প্রজ্ঞা শেখাবেন এবং তাদের জীবনকে পরিশুদ্ধ করবেন; নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।’

ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আগমনের বহু আগে ইব্রাহিম (আ.) এই দোয়া করেছিলেন। তখন মক্কা ছিল জনমানবহীন ও অনুর্বর প্রান্তর। সেই নির্জন ভূমিতে করা দোয়া পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা কবুল করেন এবং মানবজাতির জন্য শেষ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে প্রেরণ করেন।

ইব্রাহিম (আ.)-এর দোয়ায় যে নবীর বৈশিষ্ট্যের কথা উঠে এসেছে, তার মধ্যে অন্যতম ছিল মানুষকে কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেওয়া। মহানবী (সা.)-এর জীবন ও হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনাতেও তাঁর শিক্ষকসত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

এক হাদিসে তাঁর বক্তব্য হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, ‘ইন্নামা বুইছতু মুয়াল্লিমান’—অর্থাৎ, ‘নিশ্চয়ই আমি শিক্ষক হিসেবেই প্রেরিত হয়েছি।’

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগের একটি ঘটনার বর্ণনাতেও জ্ঞানচর্চার গুরুত্ব ফুটে ওঠে। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, একবার তিনি মসজিদে প্রবেশ করে দুটি দলকে দেখতে পান। একটি দল জিকির-আসকার ও ইবাদতে ব্যস্ত ছিল। অন্য দলটি জ্ঞান অর্জন, অধ্যয়ন ও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করছিল।

দুই দলের কাজেরই প্রশংসা করে মহানবী (সা.) জ্ঞানচর্চায় নিয়োজিত দলটির কাছে গিয়ে বসেন। এর মাধ্যমে তিনি জ্ঞান অর্জন ও মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার গুরুত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। অজ্ঞতা দূর করে মানুষকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করার কাজকে তিনি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শে জ্ঞানার্জন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মুসলিম সমাজে ইলম বা জ্ঞান অর্জনের দায়িত্বের কথাও হাদিসে গুরুত্বের সঙ্গে এসেছে।

প্রচলিত একটি হাদিসে বলা হয়েছে, ‘ত্বলাবুল ইলমি ফারিদাতুন আলা কুল্লি মুসলিম’—অর্থাৎ, ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ।’

ইসলামি শিক্ষায় জ্ঞানকে মানুষের আত্মিক ও নৈতিক উন্নতির অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আল্লাহর কিতাবের জ্ঞান অর্জন, তা অনুধাবন এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনার পাশাপাশি উপকারী জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমাজকে আলোকিত করার শিক্ষা মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

ইব্রাহিম (আ.)-এর দোয়া এবং মহানবী (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষার দিকে তাকালে দেখা যায়, মানুষকে আল্লাহর বাণী শেখানো, প্রজ্ঞা অর্জনে উদ্বুদ্ধ করা এবং আত্মশুদ্ধির পথে পরিচালিত করা ছিল নবুয়তি দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন