জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে ‘লিগ্যাল অফিসার’ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সভাপতির কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের তালিকায় তার নাম ও পদবি উল্লেখ করা হয়েছে।
জাইমা রহমান সভাপতির কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ অফিসের অধীনে কাজ করবেন। অফিসিয়াল তালিকায় তাকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে ‘লিগ্যাল অফিসার’ পদে দেখানো হয়েছে। একই তালিকায় সভাপতির কার্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন কর্মকর্তা ও উপদেষ্টার তথ্যও রয়েছে।
এদিকে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ২০২৬ সালের ২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি এই পদে নির্বাচিত হন। ৮১তম অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
জাইমা রহমানের দায়িত্ব বুঝতে হলে প্রথমে সাধারণ পরিষদের সভাপতির ভূমিকা জানা প্রয়োজন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের সভাপতি প্লেনারি বৈঠক পরিচালনা করেন, সভার কার্যক্রমে সভাপতিত্ব করেন এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনা ও পরামর্শ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখেন।
এসব কার্যক্রম পরিচালনার সময় জাতিসংঘ সনদ, সাধারণ পরিষদের বিধি, কার্যপ্রণালি এবং পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত ও নজির বিবেচনা করতে হয়। ফলে সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো এসব আইনি ও প্রক্রিয়াগত বিষয়ে সভাপতিকে পরামর্শ দেওয়া।
কোনো প্রতিনিধি সভার নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুললে, ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ উত্থাপিত হলে, কোনো প্রস্তাব বা সংশোধনী কীভাবে বিবেচনা করা হবে—এ ধরনের বিষয়ে সভাপতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধি ও নজির পর্যালোচনায় লিগ্যাল অফিসার সহায়তা করতে পারেন।
একইভাবে সাধারণ পরিষদের কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাব গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম, প্রক্রিয়া কিংবা আইনি বিষয় নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে তা পর্যালোচনা করে সভাপতিকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়াও এ ধরনের দায়িত্বের অংশ হতে পারে।
জাতিসংঘের কাঠামোয় সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয় একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের অধিবেশন পরিচালনার জন্য কাজ করে। সভাপতির কার্যালয়ের বর্তমান কাঠামোয় লিগ্যাল অফিসারসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মকর্তা ও উপদেষ্টা রয়েছেন।
লিগ্যাল অফিসার হিসেবে জাইমা রহমানের কাজ মূলত সভাপতির দায়িত্ব পালনের আইনি ও প্রক্রিয়াগত দিককে সহায়তা করা। প্রয়োজনে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট আইন ও প্রক্রিয়াগত সংস্থার সঙ্গে সভাপতির কার্যালয়ের সমন্বয়েও ভূমিকা রাখতে পারেন তিনি।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক আইন বা জাতিসংঘের বিধি-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে সভাপতির বক্তব্য, চিঠি কিংবা আনুষ্ঠানিক নথি প্রস্তুতের সময় আইনি দিক পর্যালোচনায় সহায়তা করা এ দায়িত্বের আওতায় পড়তে পারে।
‘লিগ্যাল অফিসার’ পদটি শুনে এটিকে জাতিসংঘের মূল আইন বিভাগের একজন সাধারণ কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। জাতিসংঘের অফিসিয়াল তালিকা অনুযায়ী, জাইমা রহমান সরাসরি সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা।
অর্থাৎ তার দায়িত্বের কেন্দ্রবিন্দু হবে সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের কাজকে আইনি ও প্রক্রিয়াগতভাবে সহায়তা করা।
সাধারণ পরিষদের বৈঠকে কোনো বিধি কীভাবে প্রয়োগ হবে, সভাপতির কোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কোন নিয়ম বা পূর্ববর্তী নজির প্রাসঙ্গিক, কোনো প্রস্তাব বা সংশোধনী কীভাবে প্রক্রিয়ায় যাবে—এ ধরনের বিষয়ে সভাপতিকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়াই এ পদের অন্যতম মূল কাজ।
ফলে জাইমা রহমানের ‘লিগ্যাল অফিসার’ পদটি মূলত সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি আইনি ও প্রক্রিয়াগত সহায়ক পদ। ৮১তম অধিবেশনজুড়ে সভাপতির কার্যালয়ের কার্যক্রম জাতিসংঘের বিধি ও প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালনায় এই ধরনের কর্মকর্তারা সহায়তা করবেন।

