পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) কর্মসূচি ঘিরে রাজধানী ইসলামাবাদে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিল করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।
কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে প্রায় ১ হাজার মালবাহী কনটেইনার বসিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, নিরাপত্তার জন্য ২২ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে ইসলামাবাদের প্রবেশপথের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার সঙ্গে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথও বন্ধ রয়েছে।
এ ছাড়া ইসলামাবাদে দুই মাসের জন্য জরুরি বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। এর আওতায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, সমাবেশ ও জনসমক্ষে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পাঞ্জাব সরকার রাওয়ালপিন্ডিসহ চার জেলায় অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্স মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে। কর্মসূচির আগে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখারও অনুরোধ করা হয়েছে।
সরকারের এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে পিটিআই। দলটির চেয়ারম্যান গওহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকার সীমিত করা হচ্ছে। ইসলামাবাদে প্রবেশের পর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকবে বলেও জানান তিনি।
ইমরান খান বর্তমানে দুর্নীতির একটি মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তাঁর পরিবার ও আইনজীবীরা কারাগারে অমানবিক পরিবেশে রাখার অভিযোগ তুলেছেন। তবে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার জন্য করাচিতে অবস্থান করছে। রোববারের কর্মসূচির পর সোমবার তাদের ইসলামাবাদ যাওয়ার কথা রয়েছে।
তবে রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেই প্রতিনিধিদলের এই সফর হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে।
তথ্যসূত্র: ব্লুমবার্গ/এনডিটিভি

