রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

টিকা নিয়ে আগের সরকারের অবহেলায় জাতিকে খেসারত দিতে হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

বিগত সরকারের সময়ে হামের টিকাদান কর্মসূচিতে দীর্ঘ চার বছর গাফিলতি ও বিলম্বের কারণে দেশের অনেক মাকে সন্তান হারানোর কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীর কড়াইল টিএনটি খেলার মাঠে দ্বিতীয় ধাপে হামের টিকা ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের পর প্রতি চার বছর অন্তর সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি চালুর দায়িত্ব সরকারের ছিল। কিন্তু ২০২০ সালের পর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এ কর্মসূচি চালু করা হয়নি। ফলে তৈরি হওয়া ঘাটতির খেসারত বর্তমান সরকারকে দিতে হয়েছে।

টিকা সংগ্রহে আগের সরকারের নেওয়া পদ্ধতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইউনিসেফের ডেলিগেটেড ওয়েতে সরাসরি টিকা কেনার পরিবর্তে ওপেন টেন্ডারে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে সময়ক্ষেপণ হয়েছে। বিদেশি সংস্থাগুলোর অনুরোধও তখন বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

এর ফলে হাম আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় এক হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি শিশুর মৃত্যুও অত্যন্ত দুঃখজনক এবং প্রতিটি মায়ের সন্তান হারানোর কষ্ট অপূরণীয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর ৫ এপ্রিল থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। প্রথম ধাপে ১৮ জেলায় কার্যক্রম পরিচালনার পর ঢাকা ও আরও দুটি সিটি করপোরেশনকে যুক্ত করা হয়। পরে কর্মসূচি এগিয়ে এনে ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী টিকাদান শুরু করা হয়।

এ কর্মসূচিতে প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে এরপরও হাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় নতুন করে ক্যাচআপ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিসেফ ১০ দিনের মধ্যে আরও ৪০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহ করেছে। মজুত থাকা টিকার সঙ্গে নতুন ডোজ যুক্ত করে এবার ৩৪ লাখ শিশুকে লক্ষ্য করে কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ১০ লাখ নতুন জন্ম নেওয়া শিশু এবং ২৪ লাখ আগে বাদ পড়া শিশু রয়েছে।

শনিবার থেকে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ক্যাম্প এবং প্রতিটি উপজেলায় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে জোরদার টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বন্ধের দিনেও টিকাদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সন্ধ্যার পরও টিকাদান কার্যক্রম চলবে।

ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। কর্মসূচি শেষে প্রায় ১০ লাখ ডোজ টিকা মজুত থাকবে বলেও জানান তিনি।

হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি ও নিউমোনিয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অপুষ্টির কারণে আক্রান্ত অনেক শিশুর অবস্থা দ্রুত গুরুতর হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় কম খরচে বোতলভিত্তিক সিপ্যাপ পদ্ধতি ব্যবহার করে গুরুতর শিশুদের অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে আক্রান্ত শিশুর কাছাকাছি থাকা অন্য শিশুদের মধ্যেও দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন