কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে গালাগাল, হুমকি ও অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এতে অপ্রতিমের বাবা-মা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ।
অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগমের ভাষ্য, নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে শুক্রবার থেকে তিনি তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন।
অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, প্রথমে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে অপ্রতিম ও তাদের পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়। এরপর তাদের দুজনের মোবাইল নম্বরে অজ্ঞাত কয়েকটি নম্বর থেকে ফোন করে গালাগাল, হুমকি ও অশোভন আচরণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব ঘটনায় তারা দুজনই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ কারণে শুক্রবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফিরোজ শাহরিয়ারকে ফোন করা হয়। ফোন ধরার পর তিনি কলদাতার পরিচয় জানতে চাইলে পরিচয় দেওয়ার পরই ওই ব্যক্তি তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে শুরু করেন। পরে কল কেটে দেওয়া হলেও একই ব্যক্তি আরও কয়েকটি নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন করেন। একপর্যায়ে নম্বরগুলো ব্লক করে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ বলেন, সাইবার বুলিং এবং বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণের অভিযোগে অপ্রতিমের বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান এবং কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর আর বাসায় ফেরেনি অপ্রতিম। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিখোঁজের একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের একটি ঝোপ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তাদের সবাইকে শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে।
পরে অপ্রতিমের বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। তাদের মধ্যে সিয়াম ছাড়া বাকি তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন করে হুমকি ও অশোভন আচরণের অভিযোগ ওঠায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

