শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটিকে নতুন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ সমঝোতা স্মারকে সই করেন। বিষয়টি রেহান আসাদও নিশ্চিত করেছেন।
সমঝোতা স্মারকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় এর প্রভাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও পারমাণবিক শক্তির সম্ভাব্য ভূমিকার কথা স্বীকার করা হয়েছে।
এতে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মানের পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা, সেফগার্ডস এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের নীতি অনুসরণের বিষয়ে দুই পক্ষের অভিন্ন অবস্থানের কথা বলা হয়েছে।
এর আগে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোরের বাংলাদেশ সফরের সময় ওয়াশিংটন ঢাকার সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারকের প্রস্তাব দেয়।
গত ৩ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছিলেন, বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে দেখছে। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা হলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো সম্পৃক্ততা বিবেচনা করা হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
তিনি আরও বলেছিলেন, সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে।
সাম্প্রতিক এই সমঝোতা এমন সময়ে হলো, যখন বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে দেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হয়েছে এবং পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগও চলছে।

