রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা: অক্টোবরে রায় হতে পারে

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান মামলার রায় আগামী অক্টোবর মাসে হতে পারে। গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচারমন্ত্রী দাউদা এ জালো এ সম্ভাব্য সময়ের কথা জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ‘চ্যানেল ২৪’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রতীক্ষিত রায়ের দিকে এগোচ্ছে বিচার কার্যক্রম।

২০১৯ সালের নভেম্বরে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সমর্থনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিজেতে মামলাটি করে গাম্বিয়া। দেশটির অভিযোগ, মিয়ানমার ১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে। ২০২২ সালের জুলাইয়ে আইসিজে মিয়ানমারের প্রাথমিক আপত্তি খারিজ করে মামলাটি শুনানির এখতিয়ার আদালতের রয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেয়।

মামলাটি মূলত ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের পর ব্যাপক রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। গাম্বিয়ার অভিযোগ, ওই সময় রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হত্যা, যৌন সহিংসতা ও গ্রাম ধ্বংসসহ গণহত্যার আওতাভুক্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়। ওই সহিংসতার পর প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

মামলার মূল বিষয়ের ওপর আইসিজেতে শুনানি হয় ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে। ১২ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত শুনানিতে উভয় পক্ষ তাদের যুক্তি উপস্থাপন করে। রোহিঙ্গা প্রত্যক্ষদর্শীরাও শুনানির সময় কথিত হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের বিষয়ে সাক্ষ্য দেন। অন্যদিকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

এর আগে মামলার শুনানিতে মিয়ানমারের পক্ষে দেশটির তৎকালীন রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবে অং সান সু চি অংশ নিয়েছিলেন। তিনি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

বর্তমানে আইসিজে মামলাটির রায় ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গাম্বিয়ার পক্ষ থেকে অক্টোবরে রায় দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হলেও আদালতের প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট রায়ের তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রেক্ষাপটে এই মামলার রায়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বর্তমানে ১২ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে এবং আইসিজেতে গাম্বিয়ার আইনি কার্যক্রমে সহযোগিতার আহ্বানও জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায় সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর জন্য আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হলেও আদালতের নিজস্ব কোনো পুলিশ বা সরাসরি বলপ্রয়োগের ব্যবস্থা নেই। রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকার সুযোগ রয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন