চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র কেনার বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউর এমন বক্তব্যের পর অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির কোনো প্রস্তাব বা পরিকল্পনা নেই।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ফক্স নিউজ সানডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চীন ও তাইওয়ান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নিয়ে কথা বলার সময় এ তথ্য জানান ডেভিড পারডিউ। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রায়ই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে। একপর্যায়ে তিনি শিকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কিছু অস্ত্র কিনতে আগ্রহী কি না।
তবে ট্রাম্প কখন এই প্রশ্ন করেছিলেন, কী ধরনের অস্ত্র নিয়ে কথা হয়েছিল কিংবা শি জিনপিং কী জবাব দিয়েছিলেন—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি পারডিউ।
পারডিউর মন্তব্যটি মূলত তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সময় আসে। চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করে আসছে। বেইজিংয়ের দাবি, এসব অস্ত্র বিক্রি চীনের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে হস্তক্ষেপ করে এবং তাইওয়ান প্রণালির উত্তেজনা বাড়ায়।
তবে পারডিউর বক্তব্য প্রকাশের পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করে জানিয়েছে, চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির কোনো পরিকল্পনা নেই। দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন আইন চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে এবং এ ধরনের কোনো প্রস্তাব বা পরিকল্পনাও নেই।
চীনের কাছে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে শিকে অস্ত্র কেনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়ে থাকলেও সেটিকে আনুষ্ঠানিক অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব হিসেবে দেখার সুযোগ সীমিত।
অন্যদিকে তাইওয়ানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ভিন্ন। ১৯৭৯ সালের তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্টের আওতায় তাইওয়ানের আত্মরক্ষার সক্ষমতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সেবা সরবরাহের নীতি অনুসরণ করে ওয়াশিংটন। এ কারণে তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অন্যতম সংবেদনশীল বিষয় হয়ে আছে।
সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ানের জন্য প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা চলছে। এর আগে ২০২৬ সালে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ অনুমোদন করা হয়েছিল। ট্রাম্প এর আগে ১৪ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজটিকে চীনের সঙ্গে আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
এদিকে শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফরের আগে বেইজিং তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি জানিয়েছিল। চীন মনে করে, তাইওয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি তাইওয়ান প্রণালির পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলছে।
ফলে ট্রাম্পের শিকে করা কথিত প্রশ্নটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হলেও, চীনের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বাস্তব কোনো উদ্যোগের কথা ওয়াশিংটন অস্বীকার করেছে। বর্তমানে বিষয়টি মূলত তাইওয়ানকে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ এবং সেটিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-চীন কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটেই আলোচিত হচ্ছে।

