সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

মডেল মসজিদে কর্মরত ইমাম-মুয়াজ্জিনদের উদ্বেগ প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

গত ২৪ সেপ্টেম্বর ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নির্মিত মডেল মসজিদসমূহের ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ‘মডেল মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৬’ প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে মডেল মসজিদগুলো ২০২১ এর নীতিমালার আলোকে পরিচালিত হতো।

নতুন এই নীতিমালা প্রকাশের পরে চরম হতাশা এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মডেল মসজিদে কর্মরত পেশ ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদিম। তাঁরা বলছেন, এই নীতিমালায় মডেল মসজিদের জনবল; বিশেষভাবে পেশ ইমামদের সম্মান ও মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন করা হয়েছে এবং মোয়াজ্জিন ও খাদেমদেরও যথাযথ মর্যাদা দেয়া হয়নি। নবম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা হওয়ার পরেও তাদের জন্য অযৌক্তিক সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে। নীতিমালায় পেশ ইমাম পদের জন্য ২০ হাজার, মুয়াজ্জিনের জন্য ১৫ হাজার এবং খাদিমের জন্য ১২ হাজার টাকার সর্বসাকুল্য সম্মানী প্রদান করার সুপারিশ করা হয়েছে।

পূর্বের নীতিমালার আলোকে মডেল মসজিদের কর্মরত ইমামরা ‘পেশ ইমাম’ তথা ইমাম ও খতিব (পূর্বের নীতিমালার ব্যাখ্যানুযায়ী) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও তাদের মর্যাদা ক্ষুন্ন করে নতুন নীতিমালায় ‘পেশ ইমাম’ এর ব্যাখ্যায় জুমার খুতবা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ইমাম হিসেবে স্থান দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে তাদের জন্য ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’ অনুসারে বেতন গ্রেড উল্লেখ করার কথা থাকলেও সেখানে পেশ ইমামের জন্য ১০ম গ্রেড, মুয়াজ্জিনের জন্য ১৬তম গ্রেড এবং খাদিমের জন্য ১৮তম গ্রেড উল্লেখ করা হয়েছে এবং কোনো মসজিদের আর্থিক সঙ্গতি থাকলে উল্লিখিত গ্রেডে বেতন-ভাতা প্রদানে বাস্তবতার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। অথচ মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫ এ পেশ ইমাম পদের জন্য ৬ষ্ঠ গ্রেড, মুয়াজ্জিনের জন্য ১১তম গ্রেড এবং খাদিমের জন্য ১৬তম গ্রেডের কথা উল্লেখ রয়েছে।

মডেল মসজিদে কর্মরত পেশ ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদিমদের বেতন-ভাতা নির্ধারণ এবং দ্রুত রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মডেল মসজিদ ইমাম সমিতি।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সমিতির মুখ্য আহ্বায়ক মুফতি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এ দাবি জানান। তিনি বলেন, নতুন নীতিমালায় মডেল মসজিদে কর্মরতদের জন্য যেসব অসঙ্গতি ও বৈষম্য রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সংশোধন করা প্রয়োজন।

সমিতির পক্ষ থেকে ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী পেশ ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদিমদের বেতন-ভাতা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তাদের চাকরি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারের রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন নীতিমালার বৈষম্য ও অসঙ্গতিগুলো দ্রুত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার পাশাপাশি বেতন-ভাতা নির্ধারণ এবং রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সমিতি।

তাদের প্রত্যাশা, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল ও মর্যাদাপূর্ণ করতে সরকার সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে নীতিমালাটি পুনর্বিবেচনা করবেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন