সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

জিয়াউর রহমানের মরদেহ পাহাড় থেকে ফেলার নির্দেশ, জিজ্ঞাসাবাদে সাবেক সেনা কর্মকর্তার দাবি

নিউজ ডেস্ক

১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে হত্যার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরদেহ পাহাড় থেকে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (বরখাস্ত/অবসরপ্রাপ্ত) মোজাফফর হোসেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) একটি গণমাধ্যমকে তানভীর হাসান বলেন, গত ১৩ সেপ্টেম্বর জিজ্ঞাসাবাদের সময় মোজাফফর এই তথ্য প্রকাশ করেন। এর আগে ১৫ জুলাই রাজধানীর বনানী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, মোজাফফর জানিয়েছেন, তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান তাকে জিয়াউর রহমানের মরদেহ পাহাড় থেকে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। নির্দেশ পেয়ে তিনি কয়েকজন সৈনিককে সঙ্গে নিয়ে সার্কিট হাউস থেকে মরদেহটি পাহাড়ে নিয়ে যান।

তবে শেষ পর্যন্ত মরদেহ পাহাড় থেকে ফেলে দেননি বলে দাবি করেছেন মোজাফফর। তার বক্তব্য, একজন ইমামকে ডেকে এনে জিয়াউর রহমানসহ তিনজনের মরদেহ একটি কবরে দাফন করা হয়। তবে দাফন করা ব্যক্তিদের একজন যে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান—এ তথ্য ইমামকে জানানো হয়নি।

দেশে ফিরে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ

প্রসিকিউটর তানভীর হাসানের দাবি, মোজাফফর হোসেনের বাংলাদেশি এনআইডি ও পাসপোর্ট রয়েছে। ১৯৯৭ বা ১৯৯৮ সালের দিকে দেশে ফিরে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

তানভীরের ভাষ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের তৎকালীন সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাতের মাধ্যমে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার দেখা হয়। সেখানে মোজাফফর স্যালুট করে পরবর্তী করণীয় জানতে চাইলে তাকে সেনাবাহিনীতে আত্মসমর্পণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

পরে সেনা সদরে চিঠি পাঠানো হলেও বিভিন্ন জটিলতায় তার সেনাবাহিনীতে যোগদানের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়নি। এরপর তিনি দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্ত হন বলে প্রসিকিউটর জানান।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল সেনা কর্মকর্তার হাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। হত্যাকাণ্ডের কয়েক দশক পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনের জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া বলে উল্লেখ করা এই বক্তব্য নতুন করে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন