রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

তাহাজ্জুদ নামাজের সময়, পদ্ধতি ও ফজিলত

নিউজ ডেস্ক

তাহাজ্জুদ নামাজ নফল ইবাদতের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে রাতের এ নামাজ আদায়ে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তাহাজ্জুদ মূলত কিয়ামুল লাইলের অন্তর্ভুক্ত। রাতে ঘুমানোর পর জেগে নামাজ আদায় করাকে তাহাজ্জুদ বলা হয়। অল্প সময়ের জন্য ঘুমিয়ে জেগে নামাজ পড়লেও তা তাহাজ্জুদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

অন্যদিকে কিয়ামুল লাইল বলতে রাতে নামাজ, জিকির, দোয়া ও কোরআন তেলাওয়াতসহ বিভিন্ন ইবাদত করাকে বোঝায়। রাতের যেকোনো অংশে এসব ইবাদত করা যায়।

হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, এশার নামাজের পর ঘুমিয়ে রাতের কোনো একসময় জেগে তাহাজ্জুদ আদায় করা যায়। সাধারণভাবে দুই রাকাত করে নামাজ আদায় করা হয়। দুই রাকাত শেষে সালাম ফিরিয়ে আবার দুই রাকাত পড়া যায়। এভাবে সামর্থ্য অনুযায়ী যত রাকাত ইচ্ছা আদায় করার পর বিতর নামাজ পড়া হয়।

হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকলে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে অবতরণ করেন এবং বান্দাদের ডাকতে ও ক্ষমা চাইতে উৎসাহিত করেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৪৫)

এশার নামাজের পর থেকে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদ আদায় করা যায়। তবে এর উত্তম সময় হলো রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বা শেষ প্রহর।

যাদের আশঙ্কা থাকে যে শেষ রাতে ঘুম থেকে উঠতে পারবেন না, তারা এশার নামাজের পর তাহাজ্জুদ আদায় করে নিতে পারেন। আর যারা শেষ রাতে জাগার আশা রাখেন, তাদের জন্য শেষ রাতে তাহাজ্জুদ ও বিতর আদায় করা উত্তম।

হজরত আবদুল্লাহ ইবন ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বিতরকে তোমাদের রাতের শেষ নামাজ করবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৯৮)

এ বিষয়ে হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি শেষ রাতে জাগতে না পারার আশঙ্কা করে, সে যেন রাতের শুরুতেই বিতর আদায় করে নেয়। আর যে ব্যক্তি শেষ রাতে জাগার আশা রাখে, সে যেন শেষ রাতেই বিতর আদায় করে। কারণ, শেষ রাতের নামাজে ফেরেশতারা উপস্থিত হন এবং এ সময়ের ইবাদত উত্তম। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৫৫)

তাই শেষ রাতে জেগে তাহাজ্জুদ আদায় করা সম্ভব হলে সে সময় ইবাদত করা বিশেষ ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত হয়।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন