একই দাগের জমির একাংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং অন্য অংশ খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট হলে সীমানা নির্ধারণ করে ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশের নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, একই দাগে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থাকলে শুধু সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমি থাকার কারণে ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশের নামজারি আবেদন গ্রহণ, অনুমোদন ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায় বন্ধ রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
পরিপত্র অনুযায়ী, এক বা একাধিক দাগে খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভূমির সঙ্গে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি একত্রে থাকলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উভয় অংশ পৃথকভাবে চিহ্নিত করার ব্যবস্থা করবেন। এ জন্য সাবেক ও হাল রেকর্ড, দাগসূচি, মৌজা ম্যাপ, মালিকানার ধারাবাহিকতা এবং সংশ্লিষ্ট মালিকদের দলিলপত্র পর্যালোচনা করতে হবে।
জমির পৃথকীকরণ অবশ্যই সরেজমিনে ও বাস্তব অবস্থার ভিত্তিতে করতে হবে। নামজারি আবেদনের পর সংশ্লিষ্ট ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বা ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবেন। এরপর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানুনগো বা সার্ভেয়ারকে দিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উপস্থিতিতে সরেজমিন তদন্ত করাবেন।
তদন্তের সময় সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি আলাদাভাবে চিহ্নিত করে যৌথ স্বাক্ষরিত খণ্ড নকশা প্রস্তুত করতে হবে। প্রয়োজনে শুনানি গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ড ও দলিলপত্র পর্যালোচনা করে ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশের নামজারি অনুমোদন ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করতে হবে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, নামজারি আবেদনের মাধ্যমে জমি পৃথক করা হলে এর জন্য আলাদা কোনো বিবিধ কেস নথি খোলার প্রয়োজন হবে না। নামজারি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এ কাজ সম্পন্ন করতে হবে। তবে নামজারি ছাড়া সরকারি স্বার্থে বা সংশ্লিষ্ট ভূমিমালিকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জমি পৃথক করার প্রয়োজন হলে আলাদা বিবিধ কেস নথি তৈরি করতে হবে।
ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশের জন্য অনুমোদিত নামজারি শুধু তফসিলে বর্ণিত ওই অংশের ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্ট দাগ ও খতিয়ানের অবশিষ্ট খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমির ওপর এ নামজারির মাধ্যমে কোনো স্বত্ব, মালিকানা, দখল বা অন্য কোনো আইনগত অধিকার সৃষ্টি হবে না।
সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট অংশ নামজারির আওতাবহির্ভূত থাকবে। একই দাগে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমি রয়েছে—এ বিষয়টি উল্লেখ করে ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশের নামজারি অনুমোদন করা হলে সৃজিত খতিয়ানের মন্তব্য কলামে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
এ ছাড়া সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকলে কিংবা আদালতের কোনো রায় বা আদেশ থাকলে তা বিবেচনায় নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। আদালতের আদেশে কোনো স্বত্ব নির্ধারিত হলে প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের সিস্টেমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা নতুন ফিচার সংযোজনের ব্যবস্থা করতে প্রকল্প পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

