মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮০ লাখ ১১ হাজার ৯৫৯ টাকার বিল দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, কম্পিউটার টাইপিংয়ের ভুলে অস্বাভাবিক এ বিল তৈরি হয়েছে।
ঘটনার পর আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম), বিলিং সুপারভাইজার, বিলিং সহকারী এবং মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের সাত কর্মদিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শোকজপ্রাপ্তরা হলেন—ডিজিএম মো. রেজাউল করিম, বিলিং সুপারভাইজার সীমা রানী, বিলিং সহকারী সুমা রানী ঘোষ এবং মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার তোরাব আলী।
মাগুরা সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের ওই বিল তৈরি করা হয়। এতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ ২৩৫ ইউনিট দেখানো হলেও পরিশোধযোগ্য অর্থের ঘরে লেখা হয় ৫০৬ কোটি ৮০ লাখ ১১ হাজার ৯৫৯ টাকা।
অস্বাভাবিক বিলটি হাতে পাওয়ার পর মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আড়পাড়া জোনাল কার্যালয়ে অভিযোগ করেন আলেয়া খাতুন। পরে কর্মকর্তারা বিলটি যাচাই করে সংশোধন করেন।
মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মহিতুল ইসলাম জানান, কয়েকদিন আগে ওই গ্রাহকের মিটার পরিবর্তন করা হয়েছিল। বিল তৈরির সময় ডিমান্ড চার্জের ঘরে নতুন মিটারের সিল নম্বর বসে যাওয়ায় অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়। কম্পিউটার টাইপিংয়ের ভুলের কারণেই এমনটি হয়েছে বলে জানান তিনি।
দায়িত্ব পালনে সতর্কতার ঘাটতির কারণে সংশ্লিষ্ট চারজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান জিএম।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, বিল সংশোধনের পর আলেয়া খাতুনের প্রকৃত পরিশোধযোগ্য অর্থ দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৩৮ টাকা। পরে তিনি সংশোধিত বিল অনুযায়ী ওই অর্থ পরিশোধ করেন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুতের প্রক্রিয়ায় এত বড় ভুল কীভাবে হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

