সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

মরিয়মের মৃত্যুর মামলা: বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস, মাকছুদার জামিন মঞ্জুর

নিউজ ডেস্ক

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের সঙ্গে বাদীপক্ষের আপস-মীমাংসা হয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান। এ-সংক্রান্ত একটি আপসনামাও আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে বিষয়টি তুলে ধরেন আইনজীবী মাহবুবুর রহমান। তবে আপসের বিষয়টি আদালত আমলে নেননি বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী।

এদিন গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন আবেদনের শুনানি হয়। শুনানিতে মামলার বাদী ও মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ জানান, দুই আসামির জামিনে তার কোনো আপত্তি নেই।

তবে শুনানি শেষে আদালত বয়স ও নারী বিবেচনায় মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন। গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। এর আগে দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ড শেষে ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছিল।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বলেন, আপসের শর্তে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের জামিন চাওয়া হয়েছিল। তার দাবি, আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং বাদীপক্ষের সঙ্গে ইতোমধ্যে আপস-মীমাংসা হয়েছে। শুনানিতে বাদী উপস্থিত থেকে জামিনে আপত্তি না থাকার কথাও জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, শুনানি শেষে আদালত মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করলেও গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।

আদালতে দাখিল করা আপসনামায় বলা হয়েছে, মরিয়ম ছিলেন গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী। বিয়ের পর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের সঙ্গে মরিয়ম হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে সংসার করছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর ৩টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে ঢাকায় নিজ বাসভবনে মরিয়ম আত্মহত্যা করেন। পরে গাজী নজরুলের ফোন পেয়ে বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে বাসায় গিয়ে মেয়ের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন তার বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

মেয়ের জামাইয়ের বাসায় মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহের বশে গাজী নজরুল ইসলাম, মাকছুদা ইসলামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় মামলা করেন মরিয়মের বাবা।

পরে দুই পক্ষের মধ্যে আপস হয় বলে আপসনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে বাদী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি থাকবে না। পাশাপাশি উভয়পক্ষের মধ্যে হৃদ্যতাপূর্ণ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে।

বিচারাধীন মামলায় উভয়পক্ষ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলেও আপসনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, উভয়পক্ষ স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে এবং কারও প্ররোচনা ছাড়া এতে স্বাক্ষর করেছে।

আপসনামাটি ২৯ সেপ্টেম্বর নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সত্যায়িত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গাজী নজরুল ইসলামকে চলতি বছরের জুলাইয়ে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন