জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অন্যদের নসিহত করার আগে নিজেদের ঘরের পরিস্থিতি সামাল দেওয়া উচিত। দলটির কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে এসব অভিযোগের তদন্ত চলছে জানিয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি প্রধানমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, একটি ‘গুপ্ত রাজনৈতিক দলের’ নেতারা বিএনপিকে বিভিন্ন বিষয়ে নসিহত করছেন। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগে নিজেদের ঘরের দিকে তাকাতে হবে এবং নিজেদের দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা নারী নির্যাতনের অভিযোগ সামাল দিতে হবে।
তিনি বলেন, তাদের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে নারীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় তিনি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না। তবে ওই দলের এক নেতার বিরুদ্ধে নির্যাতনের পাশাপাশি একজনের মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে—এমন কথাও মানুষ বলছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
জামায়াতকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দলটি মানুষকে বিভ্রান্ত করে কিছু আসনে জয় পেয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এরপর তারা দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
১৯৭১ সালে দলটির ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের ভূমিকা এবং নারী নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়গুলো মানুষ জানে। বর্তমানে দলটির বিরুদ্ধে আবারও অরাজকতা ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
সমাবেশে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প’ নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুই থেকে আড়াই বছর আগে এ এলাকায় বড় ধরনের বন্যা হয়েছিল। ওই সময় মুহুরী ব্রিজের ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হয়েছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের বন্যার ক্ষতি কমাতেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এটি তাঁদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিরও অংশ বলে জানান তিনি।
ফেনীর পরশুরামে বৃহস্পতিবার প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পটির আওতায় বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ, নদী ও জলাশয় পুনঃখনন, সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

