সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

এলপিজিতে কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি

নিউজ ডেস্ক

দেশে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার পরও খুচরা বাজারে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সরবরাহ সংকটের কথা বলে ভোক্তাদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো দাম নেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে সদস্য কোম্পানি, পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের নির্দেশ দিয়েছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি)।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এলওএবির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশে এলপিজির সরবরাহ সন্তোষজনক। গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ১ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। এর আগে আগস্টে আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন। ফলে চাহিদার তুলনায় বাজারে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। এ অবস্থায় কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

এলওএবি জানায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও এলওএবির নেতাদের মধ্যে এলপিজির সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দেশের সার্বিক সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কোনো অপারেটর, পরিবেশক, ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করলে কিংবা নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুত করলে তা প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি মন্ত্রী অনলাইন সভায় দেশের জেলা প্রশাসকদের এলপিজির বাজার পরিস্থিতি কঠোরভাবে নজরদারির নির্দেশ দেন। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এদিকে এলওএবির পক্ষ থেকে সব সদস্য কোম্পানি, পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাকে অবিলম্বে বিইআরসি নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।

সরকারের নির্ধারিত দামের সঙ্গে খুচরা বাজারের দামের বড় ধরনের ব্যবধানের অভিযোগও রয়েছে। সর্বশেষ ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বিভিন্ন এলাকায় সংকটের কথা বলে ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ করছেন ভোক্তারা।

অর্থাৎ, নির্ধারিত দামের চেয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগের বিষয়টি নজরদারিতে এনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন