রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

নতুন দুই মেট্রোরেলে সাড়ে ৫৮ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ

নিউজ ডেস্ক

ঢাকায় আরও দুটি মেট্রোরেল নির্মাণে সাড়ে ৫৮ হাজার কোটি টাকার কেনাকাটার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পের লাইন-১ ও লাইন-৫-এর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে এ অর্থ ব্যয় হবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে কমিটির বৈঠকে লাইন-১-এর চারটি এবং লাইন-৫-এর একটি প্যাকেজের পূর্ত কাজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। একই সঙ্গে লাইন-১-এর আরও দুটি এবং লাইন-৫ উত্তর রুটের একটি প্যাকেজের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

লাইন-১-এর সিপি-০৬ প্যাকেজে বাড্ডা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পথ নির্মাণ হবে। এতে ৪ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি টানেল ও বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ এবং খিলক্ষেত—এই তিনটি ভূগর্ভস্থ স্টেশন থাকবে। এ কাজে ভ্যাট-করসহ ব্যয় হবে ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

সিপি-০৯ প্যাকেজে ট্র্যাক, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বৈদ্যুতিক অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হবে ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ভারতের এলঅ্যান্ডটি ও সুমিতোমোর যৌথ উদ্যোগকে কাজ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের দর সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে ৪৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি।

সিপি-১০ প্যাকেজে সংকেত ও টেলিযোগাযোগব্যবস্থা, প্ল্যাটফর্মের পর্দা-দরজা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রোকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের দর প্রাক্কলনের চেয়ে ৫০ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি।

লাইন-১-এর সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর ওয়ার্কশপ, স্টাবিলিং শেড, অপারেশন ব্যবস্থাপনাকেন্দ্রসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হবে ৪ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা। কাজটি সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের যৌথ উদ্যোগকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যদিকে, লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজে হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার এবং নতুনবাজারের পর থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়ালপথ নির্মাণ করা হবে। হেমায়েতপুর, বলিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারায় পাঁচটি উড়ালস্টেশনও থাকবে। এ কাজে ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা। চীনের সিআরইসি, এমআইএল ও এমবিইএলের যৌথ উদ্যোগকে কাজ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া লাইন-১-এর সিপি-০৪ প্যাকেজে রামপুরা থেকে নতুনবাজার পর্যন্ত প্রধান লাইন ও স্টেশন নির্মাণে ১৮ হাজার ৩৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং সিপি-০৭ প্যাকেজে ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার প্রধান লাইন ও স্টেশন নির্মাণে ২ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকার মূল চুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে।

লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর পূর্ত ও ভবন নির্মাণে মূল চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। এ কাজের জন্য কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম ও হ্যানিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের যৌথ উদ্যোগকে দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে, বৈঠকে জরুরি ভিত্তিতে সংকট মোকাবিলায় আরও ২ লাখ ৬০ হাজার টন সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন