রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান: দীনেশ ত্রিবেদী

নিউজ ডেস্ক

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে একটি আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, বিষয়টি একটি সুসংগঠিত আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং আদালতও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।

শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকায় আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভার্সেশন ২০২৬’-এর একটি অধিবেশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ বিষয়ে দেশটির অবস্থান একাধিকবার স্পষ্ট করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, একটি আইনগত ও সুসংগঠিত প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেটি বর্তমানে চলমান। আদালতও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া সম্ভব নয়।

শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও একই ধরনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ভারতীয় হাইকমিশনার। এর আগে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের পাশাপাশি হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

যেভাবে ভারতে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনা কীভাবে ভারতে গিয়েছিলেন—এ বিষয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, তাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি। বাংলাদেশের তৎকালীন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিনি ভারতে এসেছিলেন।

তিনি বলেন, ওই সময় বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা অত্যন্ত গুরুতর ছিল। শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশ ছাড়েন, তখন তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ভারতও এমন পরিস্থিতির জন্য আগে থেকে প্রস্তুত ছিল না।

দীনেশ ত্রিবেদীর ভাষ্য, সে সময় একটি সামরিক বিমান ভারতে এসেছিল এবং পরিস্থিতির বাস্তবতায় প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। ভারত যদি তাকে গ্রহণ না করত কিংবা বিমানটিকে অবতরণের অনুমতি না দিত, তাহলে পরিস্থিতি কোন দিকে যেত, তা বলা কঠিন ছিল।

তিনি আরও বলেন, ওই সময়কার পরিস্থিতি ছিল একটি ঐতিহাসিক বাস্তবতা। আর বর্তমানে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে যে আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে, সেটি নিজস্ব গতিতে এগোচ্ছে।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ এবং দেশটির মানুষ আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থাকে সম্মান করেন। ভারতও একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে নিজেদের আইনগত প্রক্রিয়াকে সম্মান করে।

নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের অবস্থান

বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ভালোভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের কী করা উচিত, তা ভারতকে বলে দেওয়ার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিয়ে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে।

দুই দেশের নিরাপত্তা বিষয়ে পারস্পরিক সম্মানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপের প্রশ্নই আসে না। বাংলাদেশের জনগণের ওপর ভারতের পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘সম্পর্ক শুধু লেনদেনের নয়’

বাংলাদেশ অন্য দেশগুলোর সঙ্গে যে ধরনের সম্পর্কই বজায় রাখুক না কেন, নিজেদের জনগণের স্বার্থ রক্ষার অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে বলে মন্তব্য করেন দীনেশ ত্রিবেদী। একইভাবে ভারতেরও নিজেদের স্বার্থ রক্ষার অধিকার রয়েছে বলে জানান তিনি।

দুই দেশের সম্পর্ককে শুধু লেনদেনভিত্তিক হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এর চেয়ে অনেক বিস্তৃত। দুই দেশের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে।

তিনি বলেন, একজন ভালো প্রতিবেশী হিসেবে পরস্পরের মর্যাদা ও সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ-ভারতের বিভিন্ন সংকট ও মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন দীনেশ ত্রিবেদী। এর আগে তিনি বলেছিলেন, দুই দেশের মধ্যে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই খুঁজে বের করতে হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন