রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

২০৩০ সালে একই বছরে দুইবার রমজান পালন, কেন এমন হবে?

নিউজ ডেস্ক

২০৩০ সালে একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুইবার রমজান মাস পালনের বিরল ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। বছরের শুরুতে জানুয়ারি এবং শেষ দিকে ডিসেম্বর মাসে রমজান পড়ায় বিশ্বের মুসলমানরা ওই বছর দুই দফায় রোজা পালন করবেন।

সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের প্রথম রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ৫ জানুয়ারি। এটি হবে ১৪৫১ হিজরি সালের রমজান। এরপর একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে পারে ১৪৫২ হিজরি সালের রমজান। ফলে একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুইবার রমজান পালনের ঘটনা ঘটবে।

দুই রমজান মিলিয়ে ২০৩০ সালে মোট ৩৬ দিন রোজা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে প্রায় ৩০ দিন এবং ডিসেম্বরের শেষ দিকে আরও ছয় দিন রোজা পালনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এর মূল কারণ ইসলামি ও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের মধ্যে পার্থক্য। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার সৌর বছরের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হলেও ইসলামি ক্যালেন্ডার চন্দ্রচক্রনির্ভর। একটি ইসলামি চান্দ্র বছর সাধারণত ৩৫৪ দিনের, যা সৌর বছরের তুলনায় প্রায় ১১ দিন কম।

ফলে প্রতি বছর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে রমজান প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন আগে আসে। এভাবে সময়ের সঙ্গে ইসলামি মাসগুলো বিভিন্ন ঋতুর মধ্য দিয়ে ঘুরে আসে। প্রায় ৩৩ বছর পর একই ধরনের ঋতুচক্র আবার ফিরে আসে।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে ১৯৯৭ সালে একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুইবার রমজান পড়েছিল। ২০৩০ সালের পর আবার ২০৬৩ সালেও একই ধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

রমজান মাসে মুসলমানরা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখেন। তবে বছরের কোন সময়ে রমজান পড়ছে, তার ওপর রোজার সময়ের দৈর্ঘ্য নির্ভর করে। শীতকালে দিনের দৈর্ঘ্য কম থাকায় রোজার সময় তুলনামূলক কম হয়। অন্যদিকে গ্রীষ্মকালে বিশ্বের কিছু অঞ্চলে রোজার সময় ১৭ ঘণ্টারও বেশি হতে পারে।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের মাধ্যমে রমজান শুরুর সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা সম্ভব হলেও এর আনুষ্ঠানিক শুরু চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে। অনেক ইসলামি দেশ চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রমজান শুরুর তারিখ ঘোষণা করে। আবার কিছু দেশ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে তারিখ নির্ধারণ করে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন