সপ্তাহজুড়ে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ছুটির দিনে একটু বেশি ঘুমিয়ে নেওয়ার প্রবণতা অনেকেরই রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক-দুই দিনের ঘুমের ঘাটতি পূরণে অতিরিক্ত ঘুম কিছুটা উপকার করতে পারে। তবে নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি এলোমেলো করে দীর্ঘ সময় ঘুমালে শরীরের স্বাভাবিক ঘড়িতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন সাধারণত ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়। কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা। কিন্তু কাজ, পড়াশোনা ও দৈনন্দিন ব্যস্ততার কারণে অনেকেই সপ্তাহের বেশির ভাগ দিন প্রয়োজনের তুলনায় কম ঘুমান। ছুটির দিনে অতিরিক্ত ঘুমিয়ে সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করেন তারা।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এক রাত মাত্র দুই ঘণ্টা ঘুমানোর পর পরের রাতে আট ঘণ্টা ঘুমালেও শরীর পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমের সুযোগ পেলে শরীরের কিছু পরিবর্তন প্রায় স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসতে পারে।
আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, কয়েক দিন কম ঘুমের পর পর্যাপ্ত সময় ঘুমালে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ ও ইনসুলিনের কার্যকারিতার মতো শরীরের কিছু সূচক স্বাভাবিক হতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত অতিরিক্ত ঘুম মনোযোগ ও চিন্তাশক্তির ওপর কম ঘুমের কিছু নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে উঠতেও সহায়তা করতে পারে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের ঘাটতি থাকলে শুধু সপ্তাহের শেষ দিকে বেশি ঘুমিয়ে এর সব ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে মনোযোগ ধরে রাখা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের ঘাটতির প্রভাব থেকে যেতে পারে।
ছুটির দিনে কতটা বেশি ঘুমানো ভালো
গবেষণাগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যায়, নিয়মিত সময়ের তুলনায় প্রায় এক থেকে দুই ঘণ্টা বেশি ঘুম অনেকের জন্য উপকারী হতে পারে। কিছু গবেষণায় এ ধরনের অতিরিক্ত ঘুমের সঙ্গে বিষণ্নতা ও শরীরে প্রদাহের ঝুঁকি কমার সম্পর্কও পাওয়া গেছে।
তবে দুপুর পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকার অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ অতিরিক্ত ঘুম রাতে ঘুম আসার সময় পিছিয়ে দিতে পারে। এতে রোববার রাতে দেরিতে ঘুমানোর কারণে সোমবার সকালে আবার ঘুমের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝে মধ্যে এক-দুই ঘণ্টা অতিরিক্ত ঘুম শরীরকে কিছুটা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে। তবে ঘুমের ঘাটতি পূরণের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হলো প্রতিদিন পর্যাপ্ত সময় ঘুমানো এবং যতটা সম্ভব নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি বজায় রাখা।

