রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতে: অর্থমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশের অর্থনীতি এখন মূল্যস্ফীতি, কম কর আদায়, ব্যাংক খাতে আস্থার সংকট, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ঘাটতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তাসহ একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) জাতীয় আন্তবিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘ইকোনথন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জিডিপির তুলনায় দেশের কর আদায় প্রয়োজনের চেয়ে কম। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরানো এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো এখন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মূল্যস্থিতি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি করব্যবস্থাকে সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা এবং ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশ্ব অর্থনীতির পরিস্থিতি তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়েছে এবং গত দশকের তুলনায় অর্থায়নের ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সংরক্ষণবাদ ও শুল্ক-বাধা বাড়ার পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ও অস্থির রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনও প্রতিবছর অর্থনীতিতে নতুন ক্ষতির চাপ তৈরি করছে।

তার ভাষ্য, আমদানি ও রপ্তানিনির্ভর হওয়ায় বৈশ্বিক ধাক্কার সরাসরি প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। এতে পণ্যের দাম, টাকার বিনিময় হার এবং রপ্তানি আদেশে পরিবর্তন আসে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেট তৈরির সময় একটি অনুমানের ওপর পরিকল্পনা করা হলেও পরে জ্বালানির দাম, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, বন্যা কিংবা বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তার মতো নতুন পরিস্থিতি সামনে আসে। তাই বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তাই এখন স্বাভাবিক বাস্তবতা।

দেশের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির বিষয়ে আমির খসরু বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থনীতিকে প্রস্তুত করতে হবে। রপ্তানিকে শুধু বাণিজ্য সুবিধার ওপর নির্ভরশীল না রেখে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জনের ওপর জোর দিতে হবে।

নীতিনির্ধারণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সীমিত সময় ও অসম্পূর্ণ তথ্যের মধ্যেও জনগণের কাছে জবাবদিহি রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সমস্যা লুকিয়ে রাখলে সমাধান হয় না; বরং সমস্যা স্বীকার করার মধ্য দিয়েই সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন