ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে সাময়িক মেঘ বা ঝড় এলেও দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন মুছে যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর।
রোববার (৪ অক্টোবর) বে অব বেঙ্গল কনফারেন্সে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে এসব কথা বলেন।
এম জে আকবর বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ই সভ্যতাগত রাষ্ট্র। বাংলাদেশের পরিচয় কোনো কৃত্রিমভাবে তৈরি রাষ্ট্রের নয়; বরং ভাষার শক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি সভ্যতাগত রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্কে উত্থান-পতন থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যেসব প্রশ্ন ও সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর সমাধানে শুধু ‘কী সম্ভব’—এমন প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। একই সঙ্গে ‘কেন এটি অসম্ভব’—এই প্রশ্নও করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি হতে পারে।
সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে এম জে আকবর বলেন, কোনো দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা না হলে বিশ্ব আরও বেশি বিশৃঙ্খলার দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ ও সংঘাত নিয়েও বক্তব্য দেন ভারতের সাবেক এই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো যুদ্ধকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হলে তার উৎস ও পটভূমিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিংশ শতাব্দীকে তিনি তিনটি বিশ্বযুদ্ধের শতাব্দী হিসেবে উল্লেখ করেন। ঠান্ডা যুদ্ধকেও এক ধরনের বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করে এম জে আকবর বলেন, ইউরোপে এটি হয়তো ঠান্ডা ছিল, কিন্তু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকায় এর প্রভাব মোটেও ঠান্ডা ছিল না।
তার মতে, এসব সংঘাতকে বিশ্বযুদ্ধ বলা হয়েছিল পুরো পৃথিবী সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল বলে নয়; বরং বিশ্বের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে পরাশক্তি ও সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে সংঘাত তৈরি হয়েছিল বলে।
একবিংশ শতাব্দীর যুদ্ধের ধরন আগের তুলনায় ভিন্ন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এম জে আকবর বলেন, বর্তমান সময়ের সংঘাতকে একটি একক বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে দেখা যায় না। বরং এটি বিশ্বজুড়ে চলমান ধারাবাহিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে।
এসব যুদ্ধ একটানা চলমান না থাকলেও বিভিন্ন সময়ে পর্যায়ক্রমে সংঘটিত হচ্ছে এবং পুরোপুরি থেমেও যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

