কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ভয় ও নেতিবাচক ধারণা কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এআইকে নতুনভাবে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ হিসেবে উপস্থাপনার পাশাপাশি শীর্ষ প্রযুক্তি ও এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের নিয়ে একটি নিরাপত্তা চুক্তিও করা হয়েছে।
চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শীর্ষ প্রযুক্তি ও এআই প্রতিষ্ঠানের নেতারা স্বাক্ষর করেছেন। তবে এটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তিটিকে ‘নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
টেকক্রাঞ্চের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্যোগটির অন্যতম লক্ষ্য এআই নিয়ে মানুষের মধ্যে থাকা নেতিবাচক ধারণা পরিবর্তন করা। এআই মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে কিংবা ভবিষ্যতে মানবজাতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে—এমন আশঙ্কার বিপরীতে প্রযুক্তিটিকে আরও ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এআই নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা পরিবর্তনও দেখা গেছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও এআই উন্নয়নে নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিরোধিতা করেছিলেন ট্রাম্প। প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখতে হলে এআইয়ের বিকাশে অযথা বাধা দেওয়া উচিত নয় বলে তখন তিনি মত দিয়েছিলেন।
এরপর ট্রাম্পের সঙ্গে প্রযুক্তি ও এআই খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের বৈঠক হয়। এতে মেটার মার্ক জাকারবার্গ, অ্যামাজনের জেফ বেজোস এবং অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইসহ প্রযুক্তি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশ নেন।
অ্যানথ্রপিককে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে টানাপোড়েনও প্রকাশ্যে এসেছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির মতবিরোধ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যদিও আমোদেইকে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, প্রশাসনের বিভিন্ন অংশে অ্যানথ্রপিককে নিয়ে অবস্থান পুরোপুরি এক নয়।
নতুন নিরাপত্তা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কারণ এতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। ফলে এ চুক্তি বাস্তবে এআই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কতটা পরিবর্তন আনতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো পরিবর্তন না আনলেও এর রাজনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে। এর মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন এবং এআই প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা নিয়ে যৌথভাবে কাজ ও ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে।
টেকক্রাঞ্চের আলোচনায় পুরো উদ্যোগটিকে মূলত এআইয়ের ‘ভাবমূর্তি বদলের চেষ্টা’ হিসেবে দেখা হয়েছে। অর্থাৎ ‘এআই ভয়ংকর এবং মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে’—এমন আশঙ্কার বিপরীতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’কে উন্নত, নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করাই উদ্যোগটির অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে।

