রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

রেলের গতি ও সক্ষমতা বাড়াতে আসছে ৩০ ইঞ্জিন

নিউজ ডেস্ক

পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিনের চাপ কমাতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মিটারগেজ সেকশনের জন্য ৩০টি নতুন ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ইঞ্জিন কিনতেই ব্যয় হবে প্রায় ২ হাজার ৭০ কোটি টাকা। আর পুরো প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা।

প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বুধবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের কথা রয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পের অর্থায়নে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) ঋণ দেবে।

প্রতিটি লোকোমোটিভের আনুমানিক দাম পড়বে ৬৯ কোটি টাকা। কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা কোম্পানি থেকে ইঞ্জিন কেনার কথা উল্লেখ না করে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সরবরাহকারী নির্বাচন করা হবে। নতুন ইঞ্জিনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় স্পেয়ার্স, টুলস ও যন্ত্রপাতি এবং কমিশনিং, ট্রায়াল রান ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের ২০২৬ সালের একটি দরপত্রেও ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভের সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ-সেবার কথা রয়েছে।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সংস্থাটির বহরে ২৯২টি লোকোমোটিভ রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৪টি মিটারগেজ ও ১২৮টি ব্রডগেজ। একটি লোকোমোটিভের অর্থনৈতিক আয়ু ২০ বছর ধরা হলেও মিটারগেজের ১১৫টি ইঞ্জিন ইতোমধ্যে সেই সময়সীমা পার করেছে। এর মধ্যে ৬২টির বয়স ৪০ বছরেরও বেশি।

পুরোনো ইঞ্জিন সচল রাখতে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি যন্ত্রাংশ সংগ্রহেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ফলে অনেক সময় ইঞ্জিন দীর্ঘদিন অচল পড়ে থাকে। নতুন ৩০টি লোকোমোটিভ যুক্ত হলে মিটারগেজ রেলপথে ট্রেন পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পুরোনো ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা করছে রেলওয়ে।

বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। পর্যাপ্ত ডিজেল লোকোমোটিভ না থাকায় চাহিদা অনুযায়ী সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। নতুন ইঞ্জিন যুক্ত হলে আন্তঃনগর ট্রেন পরিচালনা ও পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে এবং সময়ানুবর্তিতা উন্নত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

রেলওয়ের মাস্টার প্ল্যানে মিটারগেজ রেললাইনগুলো ধাপে ধাপে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে রূপান্তর প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় আগামী কয়েক দশক মিটারগেজ ট্রেন পরিচালনার প্রয়োজন হতে পারে। এ বাস্তবতায় পুরোনো লোকোমোটিভের পরিবর্তে নতুন ইঞ্জিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকৌশলী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান হস্তান্তরের ব্যবস্থাও থাকবে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের কারিগরি বিশেষজ্ঞরা স্থানীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনাকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কারিগরি সহায়তা দেবেন।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মিটারগেজ রেলপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে পরিচালনা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমার পাশাপাশি রেলের রাজস্ব আয়ও বাড়তে পারে। রেলপথে পরিবহন সক্ষমতা বাড়লে সড়কের ওপর চাপ কমাতেও নতুন লোকোমোটিভগুলো ভূমিকা রাখতে পারে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন