সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার সিরিয়াস : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

নিউজ ডেস্ক

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার আগ্রহী এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়। তবে পরিকল্পনাটিতে কিছু পরিবর্তনের বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা যায় কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার আগের ধারণা তুলে ধরে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে নেওয়া প্রাথমিক পরিকল্পনায় মূলত নদীশাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। বর্ষায় তিস্তা নদীর ব্যাপক ভাঙন হয় এবং কোনো কোনো স্থানে নদীর প্রস্থ ৫ থেকে ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়। নদী খনন, তীর সংরক্ষণ ও ভূমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে নদীর প্রস্থ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল।

তিনি বলেন, নদীর প্রস্থ এক কিলোমিটারের মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব হলে বর্ষায় ডুবে বা ভেঙে যাওয়া আশপাশের বিপুল পরিমাণ ভূমি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে।

তবে নতুন পরিকল্পনায় পানি সংরক্ষণের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান উপদেষ্টা। তিস্তা পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, সেখানে পদ্মা ব্যারাজের ধারণার মতো বর্ষার পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে তা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিস্তার ক্ষেত্রে কাজটি তুলনামূলক কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদীটি অত্যন্ত খরস্রোতা এবং দ্রুত পানি নেমে যায়। তারপরও বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে কার্যকর পরিকল্পনা করা সম্ভব বলে মত দিয়েছেন।

এ কারণে নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি তিস্তায় পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রকল্পের অর্থায়ন প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। চীন, বাংলাদেশ কিংবা অন্য কোনো উৎস থেকে অর্থায়নের বিষয়টি পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, অর্থায়নের উৎস নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কোন উৎস থেকে অর্থ নিলে দেশের জন্য বেশি সুবিধা হবে কিংবা নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে কী সুবিধা হবে—এসব বিষয় স্বাধীনভাবে বিবেচনা করা হবে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ এবং জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন