রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

এইডস প্রতিরোধে নতুন সম্ভাবনা, যে ট্যাবলেট নিয়ে আলোচনা

নিউজ ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া মরণব্যাধি এইডসের চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে একটি পরীক্ষামূলক ওষুধ। ‘ভিএইচ-৪৯৯’ নামের ট্যাবলেটটি এইচআইভি-১ ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি থামাতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। প্রথম মানব পরীক্ষায়ও ওষুধটির কার্যকারিতার প্রমাণ মিলেছে।

গবেষকদের তথ্যমতে, ভিএইচ-৪৯৯ সরাসরি এইচআইভি ভাইরাসের ক্যাপসিড প্রোটিনকে লক্ষ্য করে কাজ করে। ভাইরাসের টিকে থাকা, বংশবৃদ্ধি ও নতুন কোষে ছড়িয়ে পড়ার জন্য এই প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ক্যাপসিডকে বাধাগ্রস্ত করে ভাইরাসের সংখ্যা কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই ওষুধটি তৈরি করা হয়েছে।

সম্প্রতি ২৩ জন এইচআইভি-১ আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কের ওপর ওষুধটির ফেজ-২এ ট্রায়াল সম্পন্ন হয়। তাদের মধ্যে ২০ জনকে ভিএইচ-৪৯৯-এর বিভিন্ন মাত্রার ডোজ দেওয়া হয় এবং তিনজনকে দেওয়া হয় প্লাসিবো।

গবেষণায় অংশ নেওয়া রোগীদের চিকিৎসার আগে রক্তে এইচআইভি ভাইরাসের মাত্রা তুলনামূলক বেশি ছিল। তবে মাত্র ১১ দিনের চিকিৎসায় ভিএইচ-৪৯৯ গ্রহণকারী প্রত্যেক রোগীর ভাইরাল লোড উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। সবচেয়ে বেশি মাত্রার ডোজ পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে ভাইরাসের পরিমাণ কমার হারও ছিল বেশি। বিপরীতে প্লাসিবো গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।

গবেষণার ফল ক্লিনিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

পরীক্ষায় ভিএইচ-৪৯৯-এর বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গবেষকদের আগ্রহের আরেকটি কারণ হলো, মানবদেহে বিভিন্ন ওষুধ বিপাকের সঙ্গে যুক্ত সিওয়াইপি৩এ৪ এনজাইমের সঙ্গে ওষুধটির মিথস্ক্রিয়া তুলনামূলক কম। ফলে একাধিক ওষুধ একসঙ্গে গ্রহণ করা রোগীদের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ওষুধ-প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্যাপসিডকে লক্ষ্য করে কাজ করা আরেকটি ওষুধ লেনাকাপ্যাভিরের সঙ্গেও ভিএইচ-৪৯৯-এর তুলনা করা হচ্ছে। লেনাকাপ্যাভির ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয় এবং এর একটি ডোজ প্রায় ছয় মাস পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারে। তবে অন্যান্য কিছু ওষুধের সঙ্গে এর মিথস্ক্রিয়ার বিষয়টি চিকিৎসায় বিবেচনা করতে হয়।

গবেষকদের মতে, বিশেষ করে জটিল চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে থাকা রোগীদের জন্য ভিএইচ-৪৯৯ ভবিষ্যতে একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ের সাফল্যই চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।

বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের আগে আরও বড় পরিসরে ফেজ-৩ ট্রায়ালসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিশ্চিত হওয়ার পরই ওষুধটির ব্যাপক ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা যাবে।

এইচআইভি চিকিৎসায় নতুন ওষুধের আবির্ভাব রোগীদের জন্য চিকিৎসার বিকল্প বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে ভিএইচ-৪৯৯ এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকায় সাধারণ রোগীদের চিকিৎসায় এর ব্যবহারের জন্য আরও গবেষণার ফলের অপেক্ষা করতে হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন