রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ডেঙ্গুর কোনো ওষুধ নেই, আক্রান্ত হলে যা খাওয়া উচিত

নিউজ ডেস্ক

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। তাই এ সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম, শরীরে পানিশূন্যতা রোধ এবং পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার দিকে বিশেষ নজর দিতে হয়। জ্বর ও শরীরের ব্যথা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেনসহ কিছু ব্যথানাশক এড়িয়ে চলা জরুরি, কারণ এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

পর্যাপ্ত তরল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

ডেঙ্গুর সময় পর্যাপ্ত তরল পান করা অত্যন্ত জরুরি। পানি, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, স্যুপসহ বিভিন্ন তরল নিয়মিত গ্রহণ করা যেতে পারে। বিশেষ করে বমি বা ডায়রিয়া থাকলে শরীরে দ্রুত পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তরল গ্রহণ বাড়াতে হবে।

খাবারের ক্ষেত্রে ভাত, খিচুড়ি, স্যুপ, ডাল, নরম সবজি, ফলসহ সহজপাচ্য খাবার খাওয়া যেতে পারে। ক্ষুধা কম থাকলে একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া ভালো। শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণে ডিম, মাছ ও অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও পরিমাণমতো খাওয়া যেতে পারে।

প্লাটিলেট কমলে কী করবেন

ডেঙ্গুতে রক্তের প্লাটিলেট কমে যেতে পারে। তবে শুধু প্লাটিলেট বাড়ানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট খাবার বা ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। পেঁপে পাতার রস, বিভিন্ন ফলের জুস বা অন্য কোনো খাবার দ্রুত প্লাটিলেট বাড়ায়—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

তাই রোগীর খাবারে বৈচিত্র্য রেখে সুষম খাদ্য নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ। সবুজ শাকসবজি, তাজা ফল, ভিটামিন ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট খাবারকে ডেঙ্গুর চিকিৎসা বা প্লাটিলেট বাড়ানোর নিশ্চিত উপায় হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।

নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করাও জরুরি। প্লাটিলেটের সংখ্যা একা রোগীর অবস্থা নির্ধারণ করে না; রক্তপাত, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য উপসর্গও চিকিৎসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

জ্বর কমলেও সতর্কতা জরুরি

ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীকে সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, রক্তবমি, কালো পায়খানা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতা থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

ডেঙ্গু রোগীর জন্য অতিরিক্ত মসলাদার, ভারী ও সহজে হজম হয় না—এমন খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি ও তরল গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। প্যাকেটজাত ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে তাজা ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডেঙ্গুতে ঘরোয়া কোনো খাবার বা পানীয়কে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে না দেখে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা। প্রয়োজন হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াই জটিলতা এড়ানোর সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন