সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পরিবর্তনে সংবিধানে ফিরছে গণভোটের বিধান

নিউজ ডেস্ক

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহালের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হলেও জনগণের অনুমোদন নেওয়ার বিধান রাখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে থাকা গণভোটের বিধান পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছিল। আদালত ওই বাতিলকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করায় সংশোধিত সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের প্রতিনিধি ও ‘জুলাই যোদ্ধা’দের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বসংক্রান্ত ৪৮ ও ৫৬ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের মৌলিক বিষয়ে পরিবর্তন আনা হলে সাংবিধানিক গণভোটের প্রয়োজন হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাও সংশোধিত সংবিধানে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

গণভোটের বিধান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান বাদ দেওয়া হলেও আদালত সেটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। তাই আগের বিধান পুনর্বহালের সাংবিধানিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ‘ডকট্রিন অব ইক্লিপস’-এর উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো সাংবিধানিক বিধান পরিবর্তন করে দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে সেটি অসাংবিধানিক ঘোষিত হলে আগের বিধানের কার্যকারিতা ফিরে আসার বিষয়টি এই নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে বিষয়টি পুরোপুরি সংবিধানে প্রতিস্থাপনের জন্য সংসদের মাধ্যমে তা পুনরায় ধারণ করা প্রয়োজন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে ভবিষ্যৎ পরিবর্তন থেকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা সংবিধানে ফিরিয়ে আনার পর কেউ তা পরিবর্তন করতে চাইলে জনগণের কাছে যেতে হবে। এ জন্য সংশোধিত সংবিধানে গণভোটের বিধান রাখা হবে।

তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা যে আমরা সংবিধানে আনছি, সেটা যাতে ভবিষ্যতে পরিবর্তন যদি কেউ করতে চায়, তখনও যাতে গণভোটের বিধান বহাল থাকে, জনগণের কাছে যেতে হয়—এইভাবে আমরা একটা সমৃদ্ধ সাংবিধানিক সংশোধনী আনব।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও অন্যান্য মৌলিক বিষয়ে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক গণভোটের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সংশোধিত সংবিধানে সেটিও স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান যুক্ত করা হয়। পরে ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আনা পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গণভোটের বিধান বাতিলের পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাও সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া হয়।

২০২৬ সালের ৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চদশ সংশোধনীর মূল অংশগুলো অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোটের বিধান পুনর্বহাল নিয়ে নতুন করে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয় সংবিধানের সংশোধিত রূপ বা নতুন টেক্সট প্রকাশ করবে বলে জানা গেছে। সেখানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাদ পড়া গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত বিধান পুনঃস্থাপনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা রয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন