রসায়নে ২০২৫ সালের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন জাপানের সুসুমু কিতাগাওয়া, যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া অস্ট্রেলীয় রসায়নবিদ রিচার্ড রবসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওমর এম. ইয়াগি। ‘মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক’ বা এমওএফ উন্নয়নের জন্য তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস জানায়, এই তিন বিজ্ঞানী এমন এক ধরনের আণবিক কাঠামো তৈরি করেছেন, যার ভেতরে বড় বড় ফাঁকা জায়গা রয়েছে। এসব কাঠামোর মধ্য দিয়ে বিভিন্ন গ্যাস ও রাসায়নিক পদার্থ প্রবেশ ও বের হতে পারে। এর ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ধারণ, বিষাক্ত গ্যাস সংরক্ষণ, মরুভূমির বাতাস থেকে পানি সংগ্রহসহ বিভিন্ন কাজে এমওএফ ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
১৯৮৯ সালে রিচার্ড রবসন প্রথম এ ধরনের আণবিক কাঠামো তৈরির ধারণা নিয়ে কাজ করেন। পরে সুসুমু কিতাগাওয়া ও ওমর এম. ইয়াগি এ প্রযুক্তিকে আরও স্থিতিশীল ও ব্যবহারযোগ্য করে তোলেন। তাদের গবেষণার ফলে পরবর্তী সময়ে হাজার হাজার ধরনের মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি হয়েছে।
নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে ২০২৫ সালের রসায়নের পুরস্কারটি ছিল এই বিভাগে ১১৭তম। পুরস্কারের অর্থমূল্য ছিল ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা তিন বিজয়ীর মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হয়।
১৯০১ সাল থেকে আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তি—এই পাঁচ বিভাগে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগে অর্থনীতিতে আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে পুরস্কার চালু হয়, যা পরের বছর প্রথম দেওয়া হয়।

