পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাচ্ছে, মলদ্বারের কাছে গুটি বা মাংসপিণ্ডের মতো কিছু অনুভূত হচ্ছে কিংবা পায়খানা করতে কষ্ট হচ্ছে—এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আবার লজ্জায় চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে কেউ নিজে থেকে ওষুধ খান, কেউ পরিচিতজনের পরামর্শ নেন। অনেকে কথিত ‘গ্যারান্টি চিকিৎসা’র আশ্রয়ও নেন। এতে সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা বিলম্বিত হতে পারে।
পাইলস বা হেমোরয়েড খুবই পরিচিত একটি সমস্যা এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর চিকিৎসা সম্ভব। তবে মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত হলেই সেটিকে পাইলস ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অ্যানাল ফিশার বা মলদ্বারের ফাটল, পলিপ, অন্ত্রের বিভিন্ন রোগ এমনকি কোলোরেক্টাল ক্যানসারের কারণেও রক্তপাত হতে পারে। তাই এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে কারণ নিশ্চিত করা জরুরি।
পাইলস কী?
মলদ্বার ও পায়ুপথের ভেতরে স্বাভাবিকভাবেই কিছু রক্তনালির গুচ্ছ থাকে। মলত্যাগের সময় পায়ুপথের নিয়ন্ত্রণে এগুলোর ভূমিকা রয়েছে। কোনো কারণে এসব রক্তনালি ফুলে গিয়ে উপসর্গ তৈরি করলে তাকে হেমোরয়েড বা প্রচলিত ভাষায় পাইলস বলা হয়।
পাইলস সাধারণত দুই ধরনের—ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল হেমোরয়েড।
ইন্টারনাল পাইলস: পায়ুপথের ভেতরের অংশে তৈরি হয়। মলত্যাগের সময় উজ্জ্বল লাল রক্তপাত হতে পারে। সমস্যা বাড়লে ফুলে যাওয়া অংশ মলত্যাগের সময় বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে।
এক্সটারনাল হেমোরয়েড: মলদ্বারের বাইরের দিকে তৈরি হয়। এতে গুটি ও ব্যথা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ওই রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে হঠাৎ ব্যথা ও ফোলাভাব বেশি হতে পারে।
রক্তপাত হলে কী করবেন?
মলত্যাগের সময় রক্তপাত হলে নিজের মতো করে পাইলসের ওষুধ শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। বিশেষ করে বারবার রক্তপাত হলে, রক্তপাতের পরিমাণ বেশি হলে, মল কালো হয়ে গেলে, পেটে ব্যথা বা অস্বাভাবিক ওজন কমার মতো উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
কোষ্ঠকাঠিন্য ও অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মলত্যাগের অভ্যাস পাইলসের উপসর্গ বাড়াতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান, আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা মল নরম রাখতে সহায়ক। তবে এসব ব্যবস্থা উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করলেও রক্তপাতের প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের বিকল্প নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মলদ্বার দিয়ে রক্তপাতকে অবহেলা না করা এবং লজ্জায় চিকিৎসা পিছিয়ে না দেওয়া। পাইলস হতে পারে, আবার অন্য কোনো রোগের লক্ষণও হতে পারে। তাই উপসর্গ অনুযায়ী সঠিক রোগ নির্ণয় করেই চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

