সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ধর্ম বা পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিকের অধিকার ও সুযোগ বাধাগ্রস্ত হবে না—এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে ধর্ম-বর্ণ বা অন্য কোনো পরিচয় যেন মানুষের অধিকার ও সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা না হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

মতবিনিময়কালে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও দাবির কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য শোনেন এবং যৌক্তিক দাবি ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, সর্বোচ্চটুকু করার চেষ্টা করা হবে। সব সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। এ সিদ্ধান্ত উৎসব উদযাপনে তাদের আনন্দ ও স্বস্তি বাড়িয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে কঠিন চীবর দান উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষকেও শুভেচ্ছা জানান এবং দেশের সব নাগরিকের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।

মতবিনিময় শেষে ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে দুই ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে বাড়তি অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী। শারদীয় দুর্গাপূজায় হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৫ কোটি টাকা এবং কঠিন চীবর দান উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে দুর্গাপূজার জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ৪ কোটি টাকা এবং কঠিন চীবর দানের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ২ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় দুই ক্ষেত্রেই চাহিদার চেয়ে ১ কোটি টাকা করে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। ২২ অক্টোবর অতিরিক্ত এক দিনের ছুটি এবং এর সঙ্গে বিজয়া দশমী ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে এ ছুটি কার্যকর হবে।

বরাদ্দের অর্থ সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে উপকারভোগীরা সরাসরি নিজেদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।

অনুদানের পরিমাণ বাড়ানো এবং ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের জন্য হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য সুবর্ণ ঠাকুর শিকদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহ-সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন