সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে চললেও শেষ মুহূর্তের কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে। এরই মধ্যে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে ৬ হাজারের বেশি কোটা বরাদ্দ হয়েছে এবং নিয়োগকর্তাদের ডিমান্ড লেটার সত্যায়নের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

বরাদ্দ পাওয়া কোটার বিপরীতে মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তারা বাংলাদেশ হাইকমিশনে ডিমান্ড লেটার সত্যায়নের জন্য আবেদন করেছেন। এরই মধ্যে কিছু ডিমান্ড লেটার সত্যায়ন করা হয়েছে।

এদিকে প্রথম ধাপে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে ১০ হাজার কর্মীকে জিরো মাইগ্রেশন কস্টে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কর্মীদের বিমান ভাড়াসহ অভিবাসন ব্যয় না নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছে সরকার।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রথমে বোয়েসেলের মাধ্যমে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর পর বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মাধ্যমেও কর্মী পাঠানো হবে। তবে জিরো কস্টের কর্মীদের ক্ষেত্রে সরকার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ রাখতে চায়, যাতে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ না থাকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫০ জন মালয়েশীয় নিয়োগকর্তা বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য কোটা চেয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬ হাজারের বেশি কর্মীর কোটা ইতোমধ্যে বরাদ্দ হয়েছে। নিয়োগকর্তারা প্রয়োজনীয় সরকারি ফি ও লেভি পরিশোধের পর কোটা পেয়েছেন এবং পরবর্তী ধাপে ডিমান্ড লেটার সত্যায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সরকার এবার কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দক্ষতা ও স্বচ্ছতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। মালয়েশীয় নিয়োগকর্তাদের চাহিদা অনুযায়ী কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও বাছাইয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ঠেকাতে কঠোর নজরদারির কথা জানিয়েছে সরকার।

বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রেও আলাদা প্রক্রিয়া চালু থাকবে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, বৈধ ও যাচাই করা ডিমান্ড লেটার সত্যায়িত হয়ে এলে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় বেসরকারি এজেন্সিগুলো কর্মী পাঠাতে পারবে; জিরো কস্টের ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগটি এর সঙ্গে আলাদা প্রক্রিয়া হিসেবে চলবে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আগের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় উচ্চ অভিবাসন ব্যয় ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ ছিল। নতুন ব্যবস্থায় এসব অনিয়ম ঠেকিয়ে কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বরাদ্দ পাওয়া কোটার কর্মীদের পাশাপাশি জিরো কস্টে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হবে। এতে কর্মীদের আর্থিক চাপ কমার পাশাপাশি নিয়মিতভাবে বেসরকারি খাতের মাধ্যমেও কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন